Aaj India Desk, মুর্শিদাবাদ : এতদিন বুলডোজ়ারের ছবি মানেই স্টেশন চত্বর বা সরকারি জমি থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদের অভিযান। এবার সেই বুলডোজ়ার পৌঁছল একটি পাঁচিলঘেরা বাগানবাড়ির সামনে। বহরমপুরের সৈয়দাবাদে তৃণমূলের প্রাক্তন যুব সভাপতি পাপাই ঘোষের (Papai Ghosh) নামে পরিচিত ওই নির্মাণ শনিবার গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন। সরকারি জমি জবরদখলের অভিযোগে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
বহরমপুর পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সৈয়দাবাদের সুড়সুড়ি মাঠ সংলগ্ন এলাকায় পাঁচিলঘেরা ওই বাগানবাড়ি দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কে ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, জাল নথির মাধ্যমে সরকারি জমি দখল করে সেখানে বাগানবাড়ি নির্মাণ করা হয়। সাথে তারা দাবি করেন যে ওই বাগানবাড়িতে বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপ চলত। এলাকায় প্রভাব বিস্তার, হুমকি দেওয়া এবং রাত পর্যন্ত আড্ডা ও মদ্যপানের আসর বসত বলেও অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের বক্তব্য, এর জেরে বিশেষ করে রাতের সময় ওই রাস্তা ব্যবহার করতে অনেকেই ভয় পেতেন।
জমিটির প্রকৃত মালিক হাওড়ার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন জমিটি পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকায় কংগ্রেস পরিচালিত পুরবোর্ড সেখানে শিশুদের জন্য একটি উদ্যান তৈরি করেছিল। পরে পুরবোর্ডের পরিবর্তনের পর বাকি ফাঁকা অংশ জাল দলিলের মাধ্যমে দখল করা হয়। এই বিষয়েই আদালতের দ্বারস্থ হন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় আদালত এলাকাবাসীর পক্ষে রায় দেয়। এরপর শনিবার সকালে প্রশাসন বুলডোজ়ার নিয়ে গিয়ে নির্মাণটি ভেঙে দেয়।
তবে পাপাই ঘোষের (Papai Ghosh) মা চম্পা ঘোষ বলেন, তাঁদের ওই জমিতে একটি বাড়ি ছিল এবং সেই সংক্রান্ত দলিল আদালতে জমা দেওয়া হয়েছিল। তাঁর দাবি, বাড়ি ভাঙার আগে তাঁদের কোনও নোটিস দেওয়া হয়নি। তিনি আরও জানান, তাঁর ছেলে বর্তমানে কোথায় রয়েছেন, তা তিনি জানেন না।
এই প্রসঙ্গে বিজেপির বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি মলয় মহাজন বলেন, অবৈধ দখলদারি বরদাস্ত করা হবে না এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রশাসন পদক্ষেপ করছে। ওই ওয়ার্ডের কংগ্রেস কাউন্সিলর ও বহরমপুর পুরসভার বিরোধী দলনেতা হিরু হালদারেরও দাবি, এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। তাঁর অভিযোগ, অতীতে আরও একাধিক সরকারি জমি ও পার্ক বেদখল হয়েছে। সেগুলিও পুনরুদ্ধারের দাবি জানান তিনি।


