Aaj lndia Desk, আরামবাগ: রেলের প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ার অভিযোগে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল আরামবাগের ভাবাদিঘিতে (Bhavadighi Protest)। শুক্রবার সকালে বিক্ষোভে নামেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের আন্দোলনের জেরে বন্ধ হয়ে যায় ভাবাদিঘিতে চলতে থাকা রেলসেতুর কাজ। পরে গোঘাটের বিধায়ক প্রশান্ত দিগারের হস্তক্ষেপে বৈঠক হয়। আশ্বাস মেলার পর শনিবার অর্থাৎ আজ থেকে ফের কাজ শুরু হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কেন বিক্ষোভে নামলেন গ্রামবাসীরা?
গ্রামবাসীদের দাবি, জমি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে আগে হওয়া ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে রেল যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার একটিও এখনও পূরণ হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই রেল প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
গ্রামবাসীদের প্রধান অভিযোগ
- বাফার জোন নিয়ে লিখিত প্রতিশ্রুতি কার্যকর হয়নি।
- সাড়ে তিন একর দিঘি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রাখা হয়নি।
- গ্রামবাসীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলি প্রত্যাহার হয়নি।
- প্রকল্পে কাটা বিপুল পরিমাণ মাটির হিসাব নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা।
কাজ কেন বন্ধ হয়ে গেল?
বিক্ষোভে শুধু পুরুষ নন, গ্রামের মহিলারাও সামিল হন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় রেল প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিকরা নিরাপত্তার স্বার্থে কাজ বন্ধ করে দেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে গোঘাট থানার ওসি, বিডিও, বিধায়ক এবং ভাবাদিঘি বাঁচাও কমিটির প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক হয়। সেখানে বিধায়ক আশ্বাস দেন, গ্রামবাসীদের সঙ্গে হওয়া প্রতিশ্রুতিগুলি ধাপে ধাপে পূরণ করা হবে। এরপরই শনিবার থেকে কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়।
রেল প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা
তারকেশ্বর–বিষ্ণুপুর রেল প্রকল্পে বর্তমানে গোঘাট পর্যন্ত ট্রেন চলছে। ভাবাদিঘির রেলসেতুর প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ শেষ। কামারপুকুর পর্যন্ত রেললাইন ও স্টেশনের কাজও প্রায় সম্পূর্ণ। আশা করা হচ্ছে , আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই পুরো রেলপথে ট্রেন চালু করা।
এখন কী বলছেন গ্রামবাসীরা?
আপাতত কাজ শুরু হলেও গ্রামবাসীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, প্রতিশ্রুতি বাস্তবে পূরণ না হলে ভবিষ্যতে আবারও আন্দোলনে নামবেন। তাই এই রেল প্রকল্পের ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই নির্ভর করছে রেল কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের উপর।


