29.4 C
Kolkata
Wednesday, August 12, 2026
spot_img

সবাইকে খুশি করার চেষ্টা করছেন? অজান্তেই নিজের ক্ষতি করছেন না তো!

SPECIAL FEATURES

সবাইকে খুশি রাখা, কারও মনে আঘাত না দেওয়া কিংবা কোনও অনুরোধে সহজে ‘না’ বলতে না পারা এসবকে আমরা অনেক সময় ভদ্রতা, ভালো ব্যবহার বা ভালো মনের পরিচয় বলেই মনে করি। কিন্তু সবসময় কি বিষয়টি এতটাই সহজ?

মনোবিজ্ঞানের মতে, অন্যের মন জুগিয়ে চলার এই প্রবণতা কখনও কখনও গভীর মানসিক অভিজ্ঞতা বা পুরনো আঘাতের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। বিশেষ করে, সব পরিস্থিতিতে নিজেকে সরিয়ে রেখে অন্যের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রবণতাকে ‘People Pleasing’ বলা হয়।

People Pleasing’ বলতে কী বোঝায়?

সহজ কথায়, নিজের ইচ্ছা, মতামত কিংবা প্রয়োজনের চেয়ে অন্যের পছন্দকে বেশি গুরুত্ব দেওয়াই People Pleasing-এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কেউ কোনও কাজের অনুরোধ করলে নিজের অসুবিধা থাকলেও ‘না’ বলতে না পারা, অন্যের মন খারাপ হবে ভেবে নিজের সিদ্ধান্ত বদলে ফেলা কিংবা অশান্তি এড়াতে সবসময় মানিয়ে নেওয়া এসব আচরণ তার মধ্যে পড়ে।

শুরুতে এই ধরনের মানুষকে অত্যন্ত সহযোগী বা নম্র মনে হতে পারে। কিন্তু দীর্ঘদিন নিজের অনুভূতি ও প্রয়োজনকে চাপা দিতে থাকলে তার প্রভাব পড়তে পারে ব্যক্তিগত জীবন ও মানসিক সুস্থতার উপর।

এর সঙ্গে ট্রমার সম্পর্ক কোথায়?

মনোবিজ্ঞানে ‘Fawn Response’ বলতে এমন একটি প্রতিক্রিয়াকে বোঝানো হয়, যেখানে কোনও ব্যক্তি নিজেকে নিরাপদ রাখতে বা সংঘাত এড়াতে অতিরিক্তভাবে অন্যকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করেন। অতীতে কোনও ব্যক্তি যদি ভয়, অশান্তি, প্রত্যাখ্যান বা অনিরাপদ পরিবেশের মধ্যে বড় হয়ে থাকেন, তাহলে তার মধ্যে এমন আচরণ গড়ে উঠতে পারে।

অর্থাৎ, ছোটবেলায় তৈরি হওয়া একটি আত্মরক্ষার কৌশল পরবর্তী জীবনে অভ্যাসের রূপ নিতে পারে। তখন অবচেতনভাবে মনে হতে পারে, অন্যকে খুশি রাখলে ঝামেলা কম হবে, সম্পর্ক নষ্ট হবে না বা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার আশঙ্কাও থাকবে না।

কোন লক্ষণগুলি দেখলে সতর্ক হবেন?

আপনি কি প্রয়োজনের চেয়ে বেশি বার ‘সরি’ বলেন? নিজের মত প্রকাশের আগে বারবার ভাবেন, অন্যজন কী মনে করবেন? কোনও অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করতে গেলেই অপরাধবোধ হয়? অথবা অন্য কেউ রেগে গেলে, ভুল আপনার না হলেও নিজেকেই দোষী মনে হয়?

এগুলির পাশাপাশি সবসময় ‘হ্যাঁ’ বলে দেওয়া, নিজের পছন্দ-অপছন্দ প্রকাশ না করা, অশান্তি এড়াতে নিজের উপর দোষ নেওয়া এবং অন্যের প্রয়োজনকে নিজের প্রয়োজনের উপরে রাখা People Pleasing-এর সম্ভাব্য কিছু লক্ষণ হতে পারে।

দীর্ঘদিন চললে সম্পর্কেও পড়তে পারে প্রভাব

অন্যকে খুশি রাখতে গিয়ে প্রথমদিকে হয়তো মনে হয়, সম্পর্ক বেশ ভালোই চলছে। কিন্তু নিজের অনুভূতি বারবার চেপে রাখলে ভিতরে ভিতরে তৈরি হতে পারে মানসিক ক্লান্তি, হতাশা কিংবা জমে থাকা ক্ষোভ।

সমস্যা হল, আপনি নিজের সীমারেখা স্পষ্ট না করলে অন্য ব্যক্তিও বুঝতে পারবেন না কোথায় আপনার অস্বস্তি হচ্ছে। ফলে কোনও সম্পর্ক ধীরে ধীরে ভারসাম্যহীন হয়ে উঠতে পারে। একসময় মনে হতে পারে, সম্পর্কটি শুধু একজনের মানিয়ে নেওয়ার উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে।

কীভাবে এই অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসবেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সব মানুষকে সবসময় খুশি রাখা সম্ভব নয়। তাই নিজের প্রয়োজন ও অনুভূতিকেও গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। প্রয়োজন হলে ছোট ছোট পরিস্থিতিতে ‘না’ বলার অভ্যাস করা যেতে পারে। নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে অপরাধবোধে না ভোগাও গুরুত্বপূর্ণ।

তবে যদি মনে হয়, অন্যকে খুশি রাখার এই প্রবণতার সঙ্গে অতীতের কোনও গভীর মানসিক অভিজ্ঞতা বা ট্রমার যোগ রয়েছে এবং তা দৈনন্দিন জীবন বা সম্পর্ককে প্রভাবিত করছে, তাহলে একজন যোগ্য মনোবিজ্ঞানী বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।

মনে রাখা দরকার, ভালো মানুষ হওয়ার অর্থ সবসময় নিজের প্রয়োজনকে পিছনে ফেলে অন্যকে সন্তুষ্ট করা নয়। সুস্থ সম্পর্কের জন্য যেমন অন্যের অনুভূতিকে সম্মান করা প্রয়োজন, তেমনই নিজের সীমারেখা, পছন্দ এবং মানসিক শান্তিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

সুরভী কুন্ডু 

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন