কলকাতা: ভোট ঘনিয়ে আসতেই ‘ডিলিটেড’ ভোটারদের (Deleted Voters) ঘিরে তৈরি হল নতুন জটিলতা। ট্রাইব্যুনালে (Tribunal) নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ ও বিলম্বের অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে, যার ফলে শেষ মুহূর্তে বহু ভোটারের ভোটাধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।
বস্তুত, ভোটের ৪৮ ঘন্টা আগেও যদি কোনও ‘ডিলিটেড’ ভোটারের নামের ট্রাইবুন্যালে নিস্পত্তি হয় তাহলে ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে ভোট দিতে পারবেন তিনি। সেই ডেডলাইন শেষ হতে বাকি আর মাত্র ১ টা দিন। এই আবহেই ‘ডিলিটেড’ ভোটারদের (Deleted Voters) হেনস্থার অভিযোগ উঠল ট্রাইবুন্যালের (Tribunal) বিরুদ্ধে।
ফের পিটিশন
জানা গিয়েছে, ১০৫ জন আবেদনকারীর পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে একটি নতুন পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। যেখানে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে ট্রাইব্যুনাল (Tribunal) তাঁদের আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণই করছে না। গত ১৩ এপ্রিল শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছিল নির্ধারিত সময়সূচির আগেই এই মামলাগুলির শুনানি সম্পন্ন করতে। কিন্তু আবেদনকারীদের দাবি, সেই নির্দেশ সত্ত্বেও তাঁদের ট্রাইব্যুনাল চত্বরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
এমনকি নিরাপত্তারক্ষীরা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশপত্র দেখানো হলেও তাঁদের বাইরে ঠেলে দেয় বলে অভিযোগ। মামলাকারীদের আইনজীবী দেবদত্ত কামাতের কথায়, পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক! ট্রাইব্যুনালে (Tribunal) কোনও আইনজীবীকেই প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না, আবেদনকারীরাও সরাসরি হাজির হতে পারছেন না। তাঁদের অনেককে হাজার হাজার কিলোমিটার দূর থেকে আসতে বলা হচ্ছে, অথচ শুনানির প্রক্রিয়া কার্যত কম্পিউটারনির্ভর হয়ে পড়েছে বলেই অভিযোগ।
এই প্রেক্ষিতে পিটিশনে সুপ্রিম কোর্টের কাছে ট্রাইব্যুনালের (Tribunal) শুনানি প্রক্রিয়া নিয়ে একটি স্পষ্ট স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রোসিডিউর (SOP) নির্ধারণ করার আর্জি জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, ট্রাইব্যুনাল থেকে নিষ্পত্তি হওয়া নামগুলি সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার শেষ দিন মঙ্গলবার, ফলে দ্রুত শুনানির দাবিতে জোর দিচ্ছেন আবেদনকারীরা।
‘বিরক্ত’ সুপ্রিম কোর্ট!
বলা বাহুল্য, এসআইআর প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের ভবিষ্যৎ আদালতের হাতে। এদিকে, নতুন করে মামলা দায়ের হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। তিনি কড়া সুরে প্রশ্ন তোলেন, “এটাই কি আপনাদের কৌশল? প্রতিদিন একটি করে মামলা দায়ের করবেন?” একই সঙ্গে তিনি জানান, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে আজই কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে রিপোর্ট তলব করা হবে।


