Aaj India desk, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পরেও ইডি (Enforcement directorate) পিছু ছাড়ল না তৃণমূলের। কয়লা পাচার, গরু পাচারসহ বিভিন্ন মামলায় ক্ষমতায় থাকাকালীন তৃণমূলের নেতামন্ত্রীরা বিভিন্ন সময়ে ডাক পেতেন ইডির কাছ থেকে। একে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলেই মনে করা হত। এবার ক্ষমতা চলে গেলেও ইডির ডাক পেলেন তৃণমূল সরকারের দুই বিদায়ী মন্ত্রী সুজিত বোস এবং রথীন ঘোষ।
কোন মামলায় ডাক পেলেন দুই নেতা?
জানা গেছে পুরসভায় অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ সংক্রান্ত একটি মামলায় ডাক পেয়েছেন দুজনে। অয়ন শীল নামে এক ব্যবসায়ীর মাধ্যমে কলকাতা-সহ ১৬টি পুরসভায় নিয়মবহির্ভূত ভাবে অনেকে চাকরি পেয়েছেন অর্থের বিনিময়ে। এই মামলাতেই ডাকা হয় দুই বিদায়ী মন্ত্রীকে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য এর আগেও এই একই মামলায় ইডির (Enforcement directorate) ডাক পেয়েছিলেন দুজনে।গতকাল সিজিও কমপ্লেক্সে যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত কেউই সেখানে হাজির হননি। রথীন জানান তিনি বাথরুমে পড়ে গিয়ে পায়ে চোট পেয়েছেন। সুজিত বোস জানান, তিনি ভোট পরবর্তী হিংসা সামলাতে ব্যস্ত রয়েছেন। উল্লেখ্য ভোটের আগেই তাদের হাজিরা দেয়ার কথা থাকলেও তখনও তারা এড়িয়ে গেছিলেন।
তৃণমূলের বিপদ কোথায়?
ইডি (Enforcement directorate) সূত্রে জানা গেছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনকালে একাধিক কেলেঙ্কারি হয়েছিল।এর মধ্যে পৌরসভায় নিয়োগ সংক্রান্ত কেলেঙ্কারিটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই লেনদেনে তাঁর ভাগ্নে এবং ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দোপাধ্যায় যুক্ত আছেন বলে মনে করা হচ্ছে। এমনিতেও ইডির (Enforcement directorate) তদন্তাধীন একাধিক অর্থ পাচারের মামলা—যার মধ্যে কয়লা চোরাচালান মামলা বা রাজনৈতিক পরামর্শক সংস্থা আই-প্যাকের মামলা দিল্লি থেকে কলকাতায় আনা হচ্ছে। কলকাতায় মামলাগুলি এলে ইডি অভিষেক, তার স্ত্রী রুজিরা, প্রাক্তন ডিজিপি রাজীব কুমার, কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা, তৎকালীন ডিসিপি প্রিয়ব্রত রায় এবং আই-প্যাক প্রধান প্রতীক জৈনসহ অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করবে। ফলে তৃণমূলের সামনে যে নতুন বিপদ একথা বলাই বাহুল্য।


