কলকাতা: সকাল ৮ টায় গ্রেফতার। বিকেল ৪ টে না বাজতেই অভিযোগ প্রত্যাহার! সোমবার ববি-ঘনিষ্ঠ প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর শামস ইকবালের (Shams Iqbal) গ্রেফতারি নিয়ে চরম নাটকের সাক্ষী থাকলো তিলোত্তমা। ৭০ লক্ষ টাকা তোলাবাজির অভিযোগে এদিন সকালে শামস ইকবালকে গ্রেফতার করে গার্ডেনরিচ থানার পুলিশ।
তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন সহ একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের হয়। তাঁকে আলিপুর আদালতে তোলা হয়। কিন্তু বিকেলের আগেই পাল্টে গেল খেলা! কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ‘ঘনিষ্ঠ’ বলে পরিচিত ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন শামস ইকবালের (Shams Iqbal) বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিলেন অভিযোগকারী নিজেই!
কেন এই ‘হৃদয় পরিবর্তন’?
আদালতে ১,০০০ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন মেলে তাঁর। মামলায় নাটকীয় মোড় আসে, যখন অভিযোগকারী ব্যবসায়ী মহম্মদ শাদাব হলফনামা দিয়ে জানান তিনি অভিযোগ প্রত্যাহার করছেন। পরে তাঁর আইনজীবী দাবি করেন, আলোচনার মাধ্যমে দু’পক্ষের মধ্যে বিষয়টি মিটে গিয়েছে।
“বেআইনি নির্মাণের বেতাজ বাদশা”
তবে জামিন পেলেও শাম্স ইকবালকে (Shams Iqbal) ঘিরে পুরনো বিতর্ক ফের সামনে এসেছে। কলকাতা পুরসভার ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর শাম্স দীর্ঘদিন ধরেই প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। সমাজমাধ্যমে ফিরহাদ হাকিম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শাম্সের একাধিক ছবি রয়েছে। একসময় কোটি টাকার বিলাসবহুল গাড়ি নিয়ে পুরসভায় পৌঁছে তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতেও এসেছিলেন।
২০২৪ সালের গার্ডেনরিচ বহুতল বিপর্যয়ের পরও শাম্সের নাম সামনে আসে। ওই ঘটনায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। অভিযোগ ওঠে, বেআইনি নির্মাণের পিছনে থাকা প্রোমোটারের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। সেই সময় সমাজমাধ্যমে প্রোমোটার ওয়াসিমের সঙ্গে শাম্সের (Shams Iqbal) ছবি ভাইরাল হয়। অভিযোগ ছিল, বেআইনি নির্মাণের ঘটনায় তাঁকে রাজনৈতিকভাবে আড়াল করা হয়েছিল। সম্প্রতি তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ধসের ঘটনাতেও তাঁর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
গার্ডেনরিচ বিপর্যয়ের পর তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও শাম্স ইকবালকে নিশানা করেছিলেন। সমাজমাধ্যমে তিনি দাবি করেছিলেন, শাম্স “বেআইনি নির্মাণের বেতাজ বাদশা” এবং সাধারণ কাউন্সিলর হয়েও কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি ও বিলাসবহুল গাড়ির মালিক হয়েছেন। তাঁর আয়ের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন শুভেন্দু। যদিও রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর শুভেন্দু অধিকারীর পা ছুঁয়ে শাম্স ইকবালের (Shams Iqbal) প্রণাম করার একটি ভিডিও ভাইরাল (Aaj India ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি) হওয়ায় নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে।


