Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : খাবারের প্যাকেটে বড় বড় অক্ষরে প্রায়ই দেখা মেলে ‘১০০% পিওর’, ‘১০০% ন্যাচারাল’ বা ‘১০০% অর্গানিক’ শব্দবন্ধ। এই দাবির উপর ভরসা করেই অনেকে কেনাকাটাও করেন। কিন্তু সেই দাবির সত্যতা সুনিশ্চিত করতে এবার কড়া অবস্থান নিল ভারতের খাদ্য সুরক্ষা ও মান নির্ধারণকারী সংস্থা FSSAI। বিভ্রান্তিকর ও নিয়মবহির্ভূত দাবি করার অভিযোগে ডাবর ইন্ডিয়ার ওয়েবসাইটে থাকা একাধিক খাদ্যপণ্যের অনলাইন বিক্রি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে সংস্থাটি। পাশাপাশি ১৫ দিনের মধ্যে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার রিপোর্টও জমা দিতে বলা হয়েছে।
কোন দাবিতে আপত্তি FSSAI-এর?
FSSAI এর অভিযোগ, ডাবরের একাধিক পণ্যের লেবেল ও ওয়েবসাইটে এমন দাবি করা হয়েছে, যার পক্ষে যথাযথ প্রমাণ দেখাতে পারেনি ডাবর। সেই আপত্তির তালিকায় রয়েছে ১০০% ন্যাচারাল, ১০০% পিওর, ১০০% অর্গানিক ও ১০০% টেন্ডার কোকোনাট ওয়াটার এর মতো শব্দ। FSSAI-এর মতে, খাদ্য সুরক্ষা ও মানক (বিজ্ঞাপন ও দাবি) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ছাড়া এ ধরনের ‘১০০%’ দাবি করা নিয়মবিরুদ্ধ।
তদন্তে কী কী অসঙ্গতি মিলেছে?
FSSAI-এর তদন্তে কয়েকটি নির্দিষ্ট পণ্যের ক্ষেত্রে একাধিক অনিয়ম ধরা পড়েছে। তাদের অভিযোগ, ‘ডাবর হিমালয়ান অর্গানিক অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার’ এবং ‘ডাবর অর্গানিক হানি’-র লেবেলে বৈধ অনুমোদন ছাড়াই ‘জৈবিক ভারত’ (Jaivik Bharat) লোগো ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া ‘ডাবর হোমমেড কোকোনাট মিল্ক’-এর মতো প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে ‘১০০% পিওরিটি’ দাবি করা হয়েছে। এটিকেও নিয়ম বহির্ভূত বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
FSSAI জানিয়েছে, এর আগেও একই ধরনের বিভ্রান্তিকর দাবি ও লেবেলিং নিয়ে ডাবরকে নোটিস পাঠানো হয়েছিল। তবে সন্তোষজনক সংশোধন না হওয়ায় এবার সংশ্লিষ্ট পণ্যের বিক্রি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ১৫ দিনের মধ্যে Action Taken Report (ATR) জমা দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে নিয়ামক সংস্থা। তবে স্বস্তির কথা, এই অভিযোগ অস্বীকার করেনি ডাবর ইন্ডিয়া। বরং তারা জানিয়েছে, FSSAI-এর চিঠি পেয়ে সংস্থা বর্তমানে ওয়েবসাইটের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট পণ্যের লেবেল পর্যালোচনা করছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপ নিচ্ছে। খাদ্যপণ্যের সাথে কোনরকম আপোস করবে না বলেও জানিয়েছে এই সংস্থা।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে খাদ্যপণ্যের বিজ্ঞাপন, লেবেলিং এবং অনলাইন তথ্যের উপর নজরদারি আরও কঠোর করেছে FSSAI। শুধু ডাবর নয়, বিভ্রান্তিকর দাবি করে পণ্য বিক্রির অভিযোগে অন্যান্য খাদ্য ও পানীয় প্রস্তুতকারী সংস্থার বিরুদ্ধেও নিয়মিত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।


