Aaj India Desk, কলকাতা: তৃণমূলের জোড়াফুল প্রতীক (TMC Joraphool Symbol) নিয়ে ফের বিস্ফোরক দাবি করলেন সোমনাথ চৌধুরী (Somnath Choudhury)। শুক্রবার নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের প্রতীক ফ্রিজ করার পর এই প্রথম মুখ খুললেন তিনি। তাঁর সাফ কথা, “আমার আঁকা প্রতীক কাউকে দিতে হবে না। নির্বাচন কমিশন (ECI) আজীবন এই প্রতীক ফ্রিজ করে রাখুক।”
প্রতীক ফ্রিজ করার সিদ্ধান্তের জন্য নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচন কমিশনারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সোমনাথ। তাঁর কথায়, “আমি চাই এই জোড়াফুল প্রতীকটা চিরকাল ফ্রিজ হয়েই থাকুক।” সোমনাথের দাবি, জোড়াফুলের প্রতীকটি তাঁরই আঁকা। তাঁর অভিযোগ, এতদিন তাঁকে সেই প্রতীকের জন্য কোনও স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। তিনি জানান, সেই সময় তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অজিত পাঁজার অনুরোধেই ফুলের প্রতীক নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন তিনি।
সোমনাথ বলেন, “অজিত পাঁজা আমাকে বলেছিলেন ফুলের উপর কিছু একটা করতে। সেই মতো আমি প্রতীকটি আঁকি। আমাকে টাকা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল, কিন্তু আমি নিইনি। বরং বলা হয়েছিল, আমাকে একটা সারপ্রাইজ দেওয়া হবে।” এরপর টিভিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে সেই প্রতীক দেখতে পান বলে দাবি সোমনাথের। তাঁর কথায়, বিষয়টি দেখে তিনি মানসিকভাবে খুব ভেঙে পড়েছিলেন। তাঁর দাবি, অজিত পাঁজা তখন তাঁকে বলেছিলেন, “তুমি তো জানো ও কেমন, দুমদাম যা পারে করে দেয়।”
দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে তিনি শুধু নিজের কাজের স্বীকৃতি চেয়েছেন বলেও জানিয়েছেন সোমনাথ। তাঁর বক্তব্য, “আমি শুধু চেয়েছিলাম, একবার স্বীকার করা হোক যে প্রতীকটা আমার আঁকা। স্বীকৃতি দিতে সমস্যা কোথায়?” এদিন নিজের পুরনো ক্ষোভের কথাও প্রকাশ করেন তিনি। সোমনাথের দাবি, “আমি অজিতদাকে বলেছিলাম, দিন আমারও আসবে। ২৮ বছর অপেক্ষা করেছি।”
শেষে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে সোমনাথ বলেন, এই প্রতীক তাঁর কাছে এখনও নিজের আঁকা প্রতীক। তিনি জানান, কেউ যদি তাঁর কাছে এসে নিয়ম মেনে প্রতীকটি চায়, তবেই তিনি তা দেওয়ার কথা ভাববেন। তাঁর কথায়, “আমার মনে অভিশাপ নিয়ে দল চালানো হচ্ছিল। আমি তো জ্যান্ত মানুষ। আমার হাই লাগবে, সেটা লাগল তো। সব ব্যাপারেই আমিত্ব।”


