Aaj India Desk, কলকাতা: ফোনের ওপারে একটি সাধারণ আমন্ত্রণ? নাকি তার আড়ালে ছিল অন্য কোনও বার্তা? অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পান যাঁরা, তাঁদেরই সল্টলেকের একটি সরকারি অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য ফোন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। কিন্তু কেউ যেতে না চাইতেই নাকি বদলে যায় কথার সুর! ভবিষ্যতে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা নিয়ে সমস্যা হতে পারে এমন ‘সতর্কবার্তা’ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি। আর এই কথোপকথনের একটি অডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই উত্তর দমদমে শুরু হয়েছে তুমুল চর্চা। যদিও ভাইরাল অডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি Aaj India ।
ঘটনাটি ১৭ সেপ্টেম্বরের একটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, তার আগে ১৫ এবং ১৬ সেপ্টেম্বর উত্তর দমদম পুরসভার নাম করে একাধিক অন্নপূর্ণা প্রাপকের কাছে ফোন পৌঁছয়। ফোনে তাঁদের জানানো হয়, ১৭ সেপ্টেম্বর সল্টলেকে মুখ্যমন্ত্রীর অনুষ্ঠান রয়েছে। সকাল ৮টার মধ্যে বণিক মোড়ে পৌঁছতে হবে। সেখান থেকে বাসে করে তাঁদের অনুষ্ঠানস্থলে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। সঙ্গে টিফিন এবং দুপুরের খাবারের বন্দোবস্তও করা হবে বলে জানানো হয়েছিল বলে অভিযোগ।
এরপরই সামনে আসে চাঞ্চল্যকর অংশ। ফোন পাওয়া এক মহিলা জানান, ওই দিন তাঁর বাড়িতে বিশ্বকর্মা পুজো থাকায় তিনি যেতে পারবেন না। অভিযোগ, তাঁর এই আপত্তির পর ফোনের অপর প্রান্ত থেকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ভবিষ্যৎ টাকা নিয়ে সমস্যার কথা বলা হয়। বিষয়টি শুনে মহিলা সরাসরি প্রশ্ন করেন, তাঁকে কি হুমকি দেওয়া হচ্ছে? পুরসভায় অভিযোগ জানানোর কথাও বলেন তিনি।
শুধু এই একটি ফোন নয়। উত্তর দমদমের আরও কয়েকজন অন্নপূর্ণা গ্রাহকের কাছেও একই ধরনের যোগাযোগের অভিযোগ উঠেছে। কারও কাছে বণিক মোড়ে, আবার কারও কাছে পাঠানপুর মোড়ে পৌঁছনোর কথা বলা হয়েছিল বলে দাবি। এমনকী অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার সংক্রান্ত অনুষ্ঠানের কথা উল্লেখ করেও কয়েকজনকে সল্টলেকে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছিল বলে অভিযোগ। পরে অবশ্য বাসে করে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল হয়। যাঁরা যেতে চেয়েছিলেন, তাঁদেরও ফোন করে বিষয়টি জানানো হয়।
তবে এখানেই তৈরি হয়েছে আসল ধোঁয়াশা। পুরসভার ট্রেড লাইসেন্স বিভাগের এক কর্মী দাবি করেছেন, দপ্তর থেকেই ফোন নম্বর দিয়ে সুবিধাভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছিল। অন্যদিকে পুরসভা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, এমন কোনও নির্দেশই দেওয়া হয়নি। অনুষ্ঠানে না গেলে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে এমন কথাও বলার নির্দেশ ছিল না বলে তাঁদের দাবি। তাহলে ফোনগুলি গেল কার নির্দেশে? আর কেনই বা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকার প্রসঙ্গ উঠল? ভাইরাল অডিয়ো ঘিরে এখন এই প্রশ্নগুলিই ঘুরছে।


