কলকাতা: পাঁচ দিন হাসপাতালের বিছানায়। চোটের যন্ত্রণা, একাকিত্ব আর বারবার চোখের জল। সেই কঠিন সময় পেরিয়ে শনিবার ফের বিগ বস (Bigg Boss Bangla) হাউজে ফিরলেন সৃজলা গুহ। আর তাঁর প্রত্যাবর্তনের মুহূর্তেই যেন বদলে গেল গোটা ঘরের আবহ। সৃজলাকে দেখেই চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না দুর্নিবার!
শনিবার ‘দাদার দরবার’-এ শুরু থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় জিতুকে জানান, কনফেশন রুমে কেউ একজন অপেক্ষা করছেন। সেখান থেকে সৃজলাকে ধীরে ধীরে ধরে মূল ঘরে নিয়ে আসেন জিতু। আর তারপরই যেন মুহূর্তটা সিনেমার দৃশ্য (Bigg Boss Bangla)! ঘরে সৃজলাকে ঢুকতে দেখেই দুর্নিবারের চোখ ছলছল। পরের মুহূর্তেই তাঁকে জড়িয়ে ধরে ঝরঝর করে কাঁদতে শুরু করেন তিনি। এতদিন ধরে যাঁকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছিলেন, সেই সৃজলা যে এভাবে হঠাৎ সামনে এসে দাঁড়াবেন, আবেগ সামলাতে পারেননি দুর্নিবার।
বন্ধুত্ব, না কি গল্পটা একটু অন্যরকম?
সৃজলা ও দুর্নিবারের বন্ধুত্ব নিয়ে অবশ্য বিগ বসের (Bigg Boss Bangla) ঘরে আগেও কম আলোচনা হয়নি। তাঁদের সম্পর্ক নিছক বন্ধুত্ব, নাকি তার মধ্যে রয়েছে অন্য কোনও সমীকরণ, তা নিয়ে মাঝেমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন অন্য প্রতিযোগীরা।
যদিও দু’জনের কেউই কখনও প্রকাশ্যে সম্পর্ক নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। তবে সৃজলার দুর্ঘটনার পর দুর্নিবারের উদ্বেগ এবং এদিন তাঁর আবেগঘন প্রতিক্রিয়া ফের সেই পুরনো প্রশ্নটাকেই সামনে এনে দিল।
‘আমি যদি ঘোড়াটা ধরে থাকতাম…’
সৃজলার দুর্ঘটনার পর থেকেই নিজেকে দায়ী করার একটা আক্ষেপ দুর্নিবারের মধ্যে ছিল। ক্যামেরার সামনে তিনি আগেই জানিয়েছিলেন, সেই সময় সৃজলার কাঠের ঘোড়াটি ধরে দাঁড়িয়ে থাকা তাঁর দায়িত্ব ছিল। কিন্তু তিনি তা করতে পারেননি।
এদিনও সেই আক্ষেপের কথা স্বীকার করেন দুর্নিবার। তাঁর বক্তব্য, তিনি যদি তখন ঘোড়াটি ধরে রাখতে পারতেন, তাহলে হয়তো দুর্ঘটনার অভিঘাত কিছুটা কমানো যেত। কিন্তু সৃজলার কাছে কেবল দুর্ঘটনার মুহূর্তটাই নয়, তার আগের কয়েকটি মুহূর্তও গুরুত্বপূর্ণ।
‘আমি বারবার ডাকছিলাম…’
সৃজলা জানান, নন্দিনী যখন তাঁর ঘোড়ার সামনে চলে আসেন, তখন তিনি বারবার সোনামণি ও দুর্নিবারকে ডাকছিলেন। তাঁর অনুরোধ ছিল, কোনওভাবে যেন নন্দিনীকে ঘোড়ার সামনে থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
কিন্তু সেই মুহূর্তে ঘোড়ার আশেপাশে কেউ ছিলেন না বলেই তাঁর দাবি। এরপর তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নন্দিনী ঘোড়াটি ধরে আছাড় মারেন এবং তিনি মুখ থুবড়ে পড়ে যান। পরিণতি ছিল ভয়াবহ। ডান পায়ে ফার্স্ট-গ্রেড ACL টিয়ার, নিয়মিত ড্রেসিং এবং দীর্ঘ হাসপাতালবাস।
‘পাঁচদিন একা একটা শহরে ছিলাম…’
দাদার দরবারে নিজের সেই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি সৃজলাও। চোখে জল নিয়ে তিনি জানান, পাঁচ দিন হাসপাতালে একা ছিলেন তিনি। পরিচিত কারও সঙ্গে কথা বলার সুযোগ ছিল না। শুধু একটু নিজের মানুষের গলা শোনার জন্যও মন কেঁদেছে তাঁর।
সৃজলার কথায়, এমন অভিজ্ঞতা যেন তাঁর শত্রুরও না হয়।
একদিকে দুর্ঘটনার যন্ত্রণা, অন্যদিকে প্রিয় মানুষদের নিয়ে অভিমান! আর তার মাঝেই বিগ বসের (Bigg Boss Bangla) ঘরে দুর্নিবারের সেই কান্না। ফলে শনিবারের ‘দাদার দরবার’ শুধু সৃজলার প্রত্যাবর্তনের জন্যই নয়, দু’জনের সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে ফের নতুন করে কৌতূহল তৈরি হওয়ার কারণেও নজর কেড়েছে। সৃজলা ফিরেছেন। কিন্তু সঙ্গে ফিরেছে সেই পুরনো প্রশ্নও, এটা কি শুধুই বন্ধুত্ব, নাকি গল্পের পাতায় আরও কিছু লেখা বাকি?


