Aaj India Desk, কলকাতা : খাস কলকাতার বুকে জলের জন্য হাহাকার (Kolkata Water Crisis)। একদিন দুদিন নয়, দীর্ঘ আড়াই মাস ধরে জল পাচ্ছেন না প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ। উত্তর কলকাতার কাশীপুর-চিৎপুরের জ্যোতিনগর কলোনিতে জুলাইয়ের শেষ থেকে পুরসভার পাইপের জল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৫ হাজার বাসিন্দার জন্য পাঁচ-ছ’টি রাস্তার কলই ছিল প্রধান ভরসা। পাইপলাইনের কাজের পর সেই জল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। সমস্যা সমাধান না হওয়ায় ২৬ সেপ্টেম্বর কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের করেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সমীরুল ইসলাম। তবু সুরাহা মেলেনি কলোনির মানুষদের।
কলকাতা পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জ্যোতিনগর কলোনি স্থানীয়ভাবে মোল্লাপাড়া বা মুসলিম কলোনি নামেও পরিচিত। এখানে মূলত নিম্ন আয়ের পরিবারের বসবাস। বহু বাসিন্দা দিনমজুরি, রিকশা চালানো, র্যাগপিকিং-সহ বিভিন্ন অনিয়মিত পেশার সঙ্গে যুক্ত।স্থানীয়দের বক্তব্য, ২৬ থেকে ২৮ জুলাই এলাকায় পুরসভার পাইপলাইন সংক্রান্ত কাজ হয়। ২৮ জুলাই রাত থেকে কলোনির রাস্তার কলগুলিতে জল আসা বন্ধ হয়ে যায়। তারপর থেকে নিয়মিত পুরসভার জল আর ফেরেনি বলে অভিযোগ।
বাসিন্দাদের দাবি, আগে ভোর প্রায় ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ওই কলগুলি থেকে জল পাওয়া যেত। এখন জল আনতে যেতে হচ্ছে দূরের কলগুলিতে। অথচ প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ মিটারের ওই অংশের বাইরে থাকা হিন্দু এলাকায় থাকা কলগুলি এখনও চালু রয়েছে। ফলে একই এলাকার মধ্যে একদিকে জল মিললেও কলোনির বাসিন্দাদের জল সংগ্রহ করতে দূরে যেতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। (Kolkata Water Crisis)
জলের প্রয়োজন মেটাতে কেউ দূরের কল থেকে বালতি করে জল আনছেন। কেউ আবার টাকা দিয়ে ট্যাঙ্কারের জল কিনছেন। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, সিপিআইএমের স্থানীয় যোগাযোগের মাধ্যমে প্রায় ৭০০ টাকা করে কয়েক দিন অন্তর ট্যাঙ্কার আনার ব্যবস্থা হলেও, এত বড় জনসংখ্যার জন্য সেই জল যথেষ্ট নয়।যাঁদের নিয়মিত জল কেনার সামর্থ্য নেই, তাঁদের পরিস্থিতি আরও কঠিন। বাসিন্দাদের অভিযোগ, স্নান, কাপড় ধোয়া-সহ বিভিন্ন কাজে গঙ্গার দূষিত জল ব্যবহার করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিজেপি বিধায়ক ঋতেশ তিওয়ারি আগেই জানিয়েছিলেন, তিনি মুসলিমদের জন্য কোনো কাজ করবেন না কারণ তাঁরা তাঁকে ভোট দেননি। কিন্তু সরকারি পরিষেবা সকলেরই প্রাপ্য। সেখানে এমন ভেদাভেদের অভিযোগ উঠতে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও। (Kolkata Water Crisis)
সমস্যার সমাধান চেয়ে ২৬ সেপ্টেম্বর কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সমীরুল ইসলাম। জ্যোতিনগরের বাসিন্দাদের পানীয় জলের সরবরাহ পুনরায় চালুর আবেদন জানানো হয়েছে ওই মামলায়। জুলাইয়ের শেষ থেকে শুরু হওয়া জল-সংকট এখন আদালতের দরজায়। কিন্তু এখনও পর্যন্ত জ্যোতিনগর কলোনিতে নিয়মিত পুরসভার জল সরবরাহ চালু হয়নি। ফলে এখন উঠছে একটাই প্রশ্ন, পাইপলাইনের কাজের পর কেন প্রায় আড়াই মাসেও ফিরল না জ্যোতিনগরের জল?


