Aaj India Desk, মুম্বাই : “মেরি এক টাং নকলি হ্যায়” শুনলেই মনে পড়ে যায় সেই চেনা মুখ। ‘ওয়েলকাম’ থেকে শুরু করে ‘হেরা ফেরি’ সিনেমায় দর্শককে হাসিয়ে মাতিয়ে রাখতেন মুশতাক খান (Mushtaq Khan)। ছোট-বড় চরিত্রে, সংলাপ আর অভিনয়ের স্বতন্ত্র ভঙ্গিতে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। সেই পরিচিত মুখটিই এবার চিরতরে আড়ালে। ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ের নানাবতী হাসপাতালে প্রয়াত হলেন বলিউডের এই বর্ষীয়ান অভিনেতা। তাঁর চলে যাওয়ায় শুধু একটি অভিনয়জীবনের ইতি হল না, হারিয়ে গেল হিন্দি সিনেমার এক পরিচিত হাসির মুখ।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মুশতাকের পেটে ব্যথা হয়েছিল। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা ক্যানসার শনাক্ত করেন। গত কয়েক দিনে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়। ছেলে মহসিন জানান, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে পর্যন্ত মুশতাক কাজ করছিলেন। এমনকী সলমন খানের দেহরক্ষী শেরার ছেলের ডেবিউ ছবির শুটিংয়েও তিনি অংশ নিয়েছিলেন। এরপরই আচমকা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় তাঁকে।
১৯৮০ সালে ‘আলবার্ট পিন্টো কো গুস্সা কিউ আতা হ্যায়’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক মুশতাক খানের (Mushtaq Khan)। এরপর ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে চার দশকের অভিনয়জীবন। থিয়েটার, টেলিভিশন এবং সিনেমা তিন মাধ্যমেই নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন তিনি। ‘আশিকি’, ‘হাম হ্যায় রাহি প্যায়ার কে’, ‘রাজা’, ‘হেরা ফেরি’, ‘গদর: এক প্রেম কথা’, ‘জোড়ি নম্বর ওয়ান’, ‘মুঝসে শাদি করোগি’, ‘ওয়েলকাম’, ‘ওয়ান্টেড’ এবং ‘ওহ মাই গড!’-এর মতো একাধিক জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। ‘ওয়েলকাম’ সিনেমায় উদয় ভাইয়ের হাতে আহত হয়ে নকল পা লাগানোর গল্প নিয়ে তাঁর কমেডি দৃশ্যটি দর্শকদের মধ্যে বিশেষ জনপ্রিয় হয়েছিল। বয়স বাড়লেও অভিনয় থেকে দূরে সরে যাননি মুশতাক (Mushtaq Khan)।
প্রধান চরিত্রের কেন্দ্রে না থেকেও নিজের অভিনয়, সংলাপ বলার ধরন এবং কমেডি টাইমিং দিয়ে বহু ছবিতে মনে রাখার মতো মুহূর্ত তৈরি করেছেন তিনি। পর্দায় তাঁর চরিত্রে দর্শক হাসতেন। কিন্তু সেই হাসির আড়ালে ছিল থিয়েটার থেকে শুরু করে বলিউড পর্যন্ত দীর্ঘ কয়েক দশকের পরিশ্রম। বৃহস্পতিবার সেই যাত্রাই থেমে গেল, পিছনে রয়ে গেল অসংখ্য চরিত্র, দৃশ্য এবং দর্শকের মনে থেকে যাওয়া এক পরিচিত মুখ।


