Aaj India Desk, পূর্ব মেদিনীপুর: একুশের বিধানসভা নির্বাচনে (Aasembly Election) নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নির্বাচনী এজেন্ট ছিলেন শেখ সুফিয়ান (Sheikh Sufian)। তারও আগে, ২০০৬ সালে মমতার প্রার্থী হিসেবেও ভোটে লড়েছিলেন তিনি। কিন্তু ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর দলের নেতৃত্ব নিয়ে প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন এই তৃণমূল নেতা। আর নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশের পর থেকেই তাঁর কোনও খোঁজ নেই বলে খবর।
রবিবার পুরনো মামলার তদন্তে শেখ সুফিয়ানের বাড়িতে যায় নন্দীগ্রাম থানার পুলিশ। নন্দীগ্রাম থানার কাছেই তাঁর বিশাল বাড়ি, যা এলাকায় ‘জাহাজ বাড়ি’ নামে পরিচিত। তবে পুলিশ সেখানে পৌঁছলেও শেখ সুফিয়ানকে পাওয়া যায়নি। পরিবারের তরফে জানানো হয়, তিনি বাড়িতে নেই। তাঁর জামাই, যিনি নিজেও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, পুলিশকে এই কথা জানান।
শুধু শেখ সুফিয়ান নন, নন্দীগ্রামের আরও এক পরিচিত তৃণমূল নেতা শেখ শাহাবুদ্দিনের বাড়িতেও যায় পুলিশ। একাধিক মামলায় তাঁর নাম রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই মামলাগুলির সূত্রেই তাঁর বাড়িতে পুলিশ গিয়েছিল বলে খবর।
শেখ সুফিয়ানের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসার মামলা রয়েছে। পাশাপাশি, ২০০৭ সালের জমি আন্দোলনকে ঘিরেও তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলছে। সূত্রের খবর, নির্বাচনের আগে পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলির তালিকা পায়। এরপর থেকেই তাঁর খোঁজ শুরু হয়।
একসময় বাম রাজনীতি দিয়ে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন শেখ সুফিয়ান। পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। ২০২১ সালের নন্দীগ্রাম নির্বাচনে মমতার নির্বাচনী এজেন্ট ছিলেন তিনি। কিন্তু ২০২৬-এর ভোটের ফল প্রকাশের পর তাঁর অবস্থান বদলে যায়। সংবাদমাধ্যমে ফোনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এমনকি নন্দীগ্রামে তৃণমূলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
শেখ সুফিয়ানের পরিবারের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকায় তিনি বর্তমানে বাড়ির বাইরে রয়েছেন। তাঁর মেয়েরাও একসময় এই বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। তাঁদের দাবি ছিল, মামলাগুলির নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা হোক এবং সুফিয়ানকে বাড়ি ফেরানো হোক। এমনকি, বাবা বাড়ি ফিরলেও তাঁকে আর সক্রিয় রাজনীতিতে না থাকার পরামর্শ দেওয়া হবে বলেও পরিবারের তরফে জানানো হয়েছিল।
এই পরিস্থিতিতে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে ফের সামনে এল শেখ সুফিয়ানের নাম। তাঁর বাড়িতে পুলিশের যাওয়া এবং একইসঙ্গে শেখ শাহাবুদ্দিনের বাড়িতেও পুলিশের উপস্থিতি ঘিরে এলাকায় নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।


