31 C
Kolkata
Sunday, May 10, 2026
spot_img

বিধানসভার পর এবার পুরসভাতেও গেরুয়া ঝড়! আসুন দেখে নিই কি বলছে সংখ্যার অংক

Aaj India Desk, কলকাতা: বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তনের পর এবার নজর কলকাতা পুরসভায় (KMC)। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি (BJP)-র বড় জয়ের পর শুধু রাজ্যের প্রশাসনিক ভবিষ্যৎ নয়, কলকাতার লালবাড়িকে ঘিরেও শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ। আর সেই আবহেই এবার নতুন করে জল্পনা তৈরি করলেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)।

৯ মে বিজেপির নতুন সরকার শপথ নেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই কলকাতা পুরসভার দুটি গুরুত্বপূর্ণ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে বেরিয়ে যান তিনি। জানা গিয়েছে, ‘পাবলিক সেফটি’ এবং ‘ভেক্টর কন্ট্রোল’ নামে দুটি প্রশাসনিক গ্রুপ থেকেই লেফট করেছেন মেয়র। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরমহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

রাজ্যে সরকার বদলের ঠিক পরেই মেয়রের এই পদক্ষেপকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। বিশেষ করে এমন সময় এই ঘটনা ঘটল, যখন তৃণমূলের বিধানসভা ভোটে হারার পর কলকাতা পুরসভা নিয়েও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, পুরবোর্ড ভেঙে দিয়ে দ্রুত পুরসভা নির্বাচনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ফিরহাদ হাকিমের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

এদিকে বিধানসভা ভোটের ওয়ার্ডভিত্তিক ফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, কলকাতার অধিকাংশ ওয়ার্ডেই এবার এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। সেই কারণে এখন থেকেই যেন কলকাতা পুরসভা গেরুয়া শিবিরের বড় লক্ষ্য হয়ে উঠেছে।

আসুন দেখে নিই পরিসংখ্যান কি বলছে

২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে কলকাতার ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে তৃণমূল এগিয়ে ছিল ১৩১টিতে। বিজেপি এগিয়ে ছিল মাত্র ১২টিতে এবং বাম-কংগ্রেস জোট ছিল ১টিতে।

২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে সেই ব্যবধান কিছুটা কমে আসে। তখন তৃণমূল এগিয়ে ছিল ৯৬টি ওয়ার্ডে, বিজেপি ৪৬টিতে এবং বাম-কংগ্রেস জোট ২টিতে।

কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের ফল পুরো ছবিটাই বদলে দিয়েছে। এবার কলকাতার ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে বিজেপি এগিয়ে রয়েছে ১০২টিতে। তৃণমূল এগিয়ে মাত্র ৪২টি ওয়ার্ডে।

এই ফলের পর থেকেই গেরুয়া শিবিরের নজর এখন সরাসরি কলকাতা পুরসভা দখলের দিকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছরের মধ্যেই যদি পুরসভা নির্বাচন হয়, তাহলে এই ওয়ার্ডভিত্তিক ফল বিজেপির কাছে বড় সুবিধার হয়ে দাঁড়াতে পারে।

কলকাতার ১৪৪টি ওয়ার্ড মোট ১৭টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে। এর মধ্যে বিজেপি জিতেছে ১০টি বিধানসভা কেন্দ্র এবং তৃণমূল জিতেছে ৭টি।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, শ্যামপুকুর, বেহালা পশ্চিম, মানিকতলা এবং যাদবপুরের মতো কয়েকটি বিধানসভা এলাকায় এমনও ওয়ার্ড রয়েছে, যেখানে তৃণমূল একটিতেও এগিয়ে নেই। ফলে বিজেপি শিবিরে আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বেড়েছে।

অন্যদিকে কলকাতার সংখ্যালঘু অধ্যুষিত কিছু এলাকায় এখনও তৃণমূলের দাপট বজায় রয়েছে। মেটিয়াবুরুজ, গার্ডেনরিচ, রাজাবাজার ও বেলগাছিয়ার মতো এলাকায় তৃণমূল বড় ব্যবধানে লিড পেয়েছে।

ভবানীপুর বিধানসভাতেও উঠে আসছে চমকপ্রদ তথ্য। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায় ২২ হাজার ভোটে এগিয়ে থাকলেও, বাকি সাতটি ওয়ার্ডে তৃণমূল পিছিয়ে পড়েছে। এমনকী যে সব আবাসনে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রচার করেছিলেন, সেই এলাকাগুলিতেও তৃণমূল প্রায় কয়েক হাজার ভোটে হেরেছে বলে জানা গেছে।

মেয়র ফিরহাদ হাকিমও ৮২ নম্বর ওয়ার্ডে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। এর মধ্যেই খবর, সরকার গঠনের পর থেকেই বিজেপি পুরসভা ভোটের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। ওয়ার্ডভিত্তিক সংগঠনকে শক্তিশালী করা, সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই এবং এলাকায় এলাকায় কাজ শুরু করার পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে।

জানা যাচ্ছে যে, চলতি বছরের ডিসেম্বরেই কলকাতা পুরসভার বর্তমান বোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। ফলে আগামী বছরের শুরুতেই কি কলকাতা নতুন মেয়র পেতে চলেছে? এখন সেই প্রশ্নই ঘুরছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন