Aaj India Desk, কলকাতা: ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বারবার বাম সরকারের বিরুদ্ধে বিপুল ঋণের বোঝা চাপিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এবার রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। প্রথমবার বাংলার ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি (BJP), আর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এখন প্রশ্ন উঠছে, বিদায়ী তৃণমূল (TMC) সরকার নতুন প্রশাসনের জন্য ঠিক কী পরিস্থিতি রেখে গেল?
দারিদ্র্যতা
সূত্রের খবর, রঙ্গরাজন কমিটির হিসাব বলছে ২০২৩ সালে রাজ্যে প্রায় ১১.৮৯ শতাংশ মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে ছিলেন। যদিও এই পরিসংখ্যান নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। সেই হিসাব অনুযায়ী, শহরে দিনে ৪৭ টাকা এবং গ্রামে ৩২ টাকা খরচ করতে পারলেই দারিদ্রসীমার উপরে পৌঁছানো যাবে।
ঋণের চাপ
জানা গিয়েছে, বিদায়ী সরকারের রেখে যাওয়া মোট ঋণের পরিমাণ প্রায় ৭.৭১ লক্ষ কোটি টাকা। ফলে নতুন বিজেপি সরকারের সামনে আর্থিক চাপ সামলানো একটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
শিল্প ও বিনিয়োগ
রাজ্যে শিল্প টানতে নিয়মিত বিজনেস সামিট আয়োজন করত তৃণমূল সরকার। সেখানে দেশের বড় বড় শিল্পপতি ও সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিতেন। কিন্তু এত উদ্যোগের পরেও বিদেশি বিনিয়োগে বাংলার অংশ মাত্র ০.৬ শতাংশ বলেই সূত্রের দাবি। পাশাপাশি, প্রায় সাত হাজার সংস্থা রাজ্য ছেড়েছে বলেও জানা যাচ্ছে।
জমি সমস্যা ও পরিকাঠামো
রেলের বিভিন্ন প্রকল্পে জমি না পাওয়ার অভিযোগ একাধিকবার তুলেছেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী Ashwini Vaishnaw। সূত্রের দাবি, রেলের জন্য প্রয়োজন ছিল ৪,৫৬৪ হেক্টর জমি, কিন্তু রাজ্য দিয়েছে মাত্র ২৭ শতাংশ। এছাড়াও কেন্দ্রের একাধিক বড় পরিকাঠামো প্রকল্পে প্রায় ২৯০০ কোটি টাকার কাজ ঠিকমতো এগোয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। আরও প্রায় ১৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প ধীর গতিতে চলছে।
কর্মসংস্থান
চাকরি ও কাজের খোঁজে বাংলার বহু মানুষ এখনও কেরল, তামিলনাড়ু, গুজরাট ও দিল্লির মতো রাজ্যে পাড়ি দিচ্ছেন। সরকারি হিসেবে পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ২২ লক্ষ হলেও, বেসরকারি অনুমান বলছে সেই সংখ্যা ৫০ লক্ষেরও বেশি হতে পারে।
এখন দেখার, নতুন বিজেপি সরকার এই সমস্যাগুলো কতটা কমাতে পারে, নাকি আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে।


