SPECIAL FEATURE
মুড়ি,পেঁয়াজ,কাঁচালঙ্কা, চাট মশলা, লেবুর রসটা হালকা করে ওপর থেকে ছড়িয়ে সর্ষের তেলটা একটু বেশিই ঝাঁঝ তাই পরিমাণ বুঝে দেওয়া লাগে এইসব একসঙ্গে মিশলেই তৈরি হয় বাঙালির চিরকালীন ক্রাশ ঝালমুড়ি।
এমন একটা খাবার,যেটা বানাতে পাঁচ মিনিট লাগে, কিন্তু খেতে শুরু করলে আধঘণ্টার আগে থামেনা।ঝালমুড়ি খাওয়ার আবার কোনও নিয়ম আছে নাকি, কেউ বেশি তেল দেন, কেউ বেশি লঙ্কা, কেউ আবার বাদাম না পেলে রাগ করে চলে যান। একেকজনের একেক আইডিওলজি।
আর এখন তো শুধু বিকেলের আড্ডা বা ট্রেনের কামরাতেই নয়, রাজনীতিতে ও ঝালমুড়ি এখন সরাসরি ঢুকে পড়েছে।কোথাও নেতা ঝাল মিশিয়ে বক্তৃতা দিচ্ছেন, কোথাও আবার ভোটের আগে প্রতিশ্রুতির মুড়িতে তেল-মশলা মাখানো হয়েছে ,কেউ বলছেন উন্নয়নের ঝালমুড়ি, কেউ বলছেন পরিবর্তনের ঝালমুড়ি।
সব মিলিয়ে বাংলার রাজনীতি এখন পুরো ঠোঙাভর্তি মিক্সচার কখন কোন বাদাম বেরোবে আর কখন কাঁচালঙ্কা কামড়ে চোখে জল আসবে, সেটা কেউ জানে না তবে একটা ব্যাপারে সবাই একমত বাংলায় ঝালমুড়ি শুধু খাবার নয়, এটা একটা অনুভূতি আর এখন মনে হচ্ছে, একটা রাজনৈতিক দলও হয়ে উঠতে চলেছে।
ঝালমুড়ির ইতিহাস
কলকাতার অলিগলি, ট্রামের লাইন আর ফুটপাতের আড্ডা সব কিছুর মাঝেই একসময় জন্ম নেয় এক মশলাদার বিপ্লব নাম তার ঝালমুড়ি।শোনা যায়,বিহার থেকে কাজের খোঁজে কলকাতায় আসা পরিযায়ী শ্রমিকদের হাত ধরেই এই খাবারের জনপ্রিয়তা বাড়তে শুরু করে। তখন ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী হিসেবে কলকাতা সেই সময় ছিল জমজমাট শহর, আর সেই ব্যস্ত শহরের ফাঁকেই কাগজের ঠোঙায় জায়গা করে নেয় মুড়ি, সর্ষের তেল আর কাঁচালঙ্কার এই দুর্দান্ত কম্বিনেশন।
দেশভাগের পর বহু বিহারী মুসলিম পরিবার পূর্ববাংলায় চলে গেলে, ঝালমুড়িও সীমান্ত পেরিয়ে পৌঁছে যায় বাংলাদেশে। তারপর থেকে দুই বাংলার বিকেল যেন এই এক ঠোঙা মশলাদার সুখ ছাড়া অসম্পূর্ণ।
ঝালমুড়ি এখন রাজনীতিতেও
একসময় বাংলার রাজনীতিতে জয়ের আনন্দ মানেই ছিল লাড্ডু বিলি।কিন্তু সময় বদলেছে, ট্রেন্ড বদলেছে,এখন রাজনীতিও বুঝে গেছে লাড্ডুতে আর কাজ হবে না জনগণ চাইছে ঝাল।মোদীজি একবার ঝালমুড়ি খাওয়ার পর থেকেই নাকি বাংলার রাজনীতিতে এই জলখাবারের কদর হু-হু করে বেড়ে যায়। আগে যা ছিল ফুটপাতের ঠোঙায় সীমাবদ্ধ,এখন তা পৌঁছে গেছে একেবারে রাজনৈতিক মঞ্চে এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানেও ছিল কুড়িটি ঝালমুড়ির স্টল।
ভাবুন একবার আগে নেতারা বলতেন,”মিষ্টি মুখ করুন।”এখন বলছেন, “একটু বেশি কাঁচালঙ্কা দেব?” রাজনীতির ময়দানেও এখন পুরো ঝালমুড়ি থিওরি কেউ বেশি ঝাল, কেউ বেশি তেল, কেউ আবার শুধু বাদাম খুঁজছেন।
কেউ উন্নয়নের চাট মশলা ছড়াচ্ছেন, কেউ প্রতিশ্রুতির লেবুর রস মাখাচ্ছেন, আর সাধারণ মানুষ দাঁড়িয়ে ভাবছে”দাদা,এত মশলা দেবেন না, পরে পেট গরম হবে তো”
সব মিলিয়ে এখন বাংলার রাজনীতি আর ঝালমুড়ির মধ্যে তফাৎ খুঁজে পাওয়া কঠিন। দুটোই চটপটে, মশলাদার, আর কখন কোন কামড়ে চোখে জল আসবে সেটা আগে থেকে বলা মুশকিল।


