Aaj India Desk, কলকাতা : আর জি কর কাণ্ডের পর চিকিৎসকদের একাংশের বিরুদ্ধে ওঠা ‘থ্রেট কালচার’ বিতর্কে এবার বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর (West Bengal Health Department)। কলকাতার বিখ্যাত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিভাগীয় তদন্ত বা ডিপার্টমেন্টাল প্রসিডিংস শুরু করার সিদ্ধান্তও নিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর। শুক্রবার রাতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের মেডিক্যাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন শাখা এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করে।
কার বিরুদ্ধে তদন্ত ?
পূর্ব বর্ধমানের বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের রেডিও ডায়াগনোসিস বিভাগের প্রাক্তন আরএমও ডাঃ অভীক দের (Avik De) বিরুদ্ধেই জারি করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তি। তিনি কলকাতার আইপিজিএমইআর (এসএসকেএম)-এ জেনারেল সার্জারির প্রথম বর্ষের ইন-সার্ভিস পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেনি হিসেবে যোগ দেন।
আর জি কর বিতর্কের পর গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। এবার সেই সাসপেনশনের মধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হচ্ছে।
কী নিয়ে অভিযোগ ?
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ডাঃ অভীক দে ‘সার্ভিস কোটা’ ব্যবহার করে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কোর্সে ভর্তি হওয়ার অনুমোদন পেয়েছিলেন। এই নিয়েও পৃথক উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হবে বলে জানানো হয়েছে। প্রভাব খাটিয়ে কোনও অনিয়ম হয়েছিল কি না এবং যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। রাজ্যপালের অনুমোদনের ভিত্তিতেই এই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য দপ্তরের (West Bengal Health Department) জারি করা নির্দেশিকার কপি ইতিমধ্যেই ডিরেক্টরেট অফ মেডিক্যাল এডুকেশন (DME), ডিরেক্টরেট অফ হেলথ সার্ভিসেস (DHS), আইপিজিএমইআর কর্তৃপক্ষ, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের ভিজিল্যান্স শাখায় পাঠানো হয়েছে।
ইতিবাচক পদক্ষেপের প্রশংসা জুনিয়র ডাক্তারদের
আর জি কর-কাণ্ডের পর থেকেই রাজ্যের চিকিৎসা ব্যবস্থার ভিতরে এক ধরনের ‘থ্রেট কালচার’ বা প্রভাব খাটানোর অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছিল। জুনিয়র ডাক্তারদের একাংশ বারবার অভিযোগ করেছিলেন, কিছু প্রভাবশালী চিকিৎসক ও গোষ্ঠী হাসপাতালের ভিতরে এমন এক পরিবেশ তৈরি করেছিলেন, যেখানে বিরোধিতা করলে চাপ, হুমকি বা প্রশাসনিক সমস্যার মুখে পড়তে হত। চিকিৎসকদের বদলি, পোস্টিং, পিজি ভর্তি থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তেও একটি প্রভাবশালী লবির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।
এই আবহে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের (West Bengal Health Department) সাম্প্রতিক তদন্তকে প্রশংসনীয় উদ্যোগ বলে মন্তব্য করেছেন চিকিৎসক মহলের একাংশ। এতদিন যাঁদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠছিল, তাঁদের বিরুদ্ধেই এবার সরাসরি প্রশাসনিক তদন্ত শুরু হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন তারা। জুনিয়র ডাক্তারদের একাংশের বক্তব্য, আর জি কর-কাণ্ডের পর হাসপাতালগুলিতে স্বচ্ছ ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরির দাবি জোরালো হয়েছিল। চিকিৎসা পরিষেবার জায়গায় কোনও ধরনের প্রভাব খাটানো বা গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চলতে পারে না। তাই দেরিতে হলেও স্বাস্থ্য দপ্তরের এই পদক্ষেপকে অনেকেই ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন।


