Aaj India Desk, কলকাতা : ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেপ্তারির পর সরাসরি প্রাক্তন মন্ত্রীর ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গ্রেপ্তারিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সঙ্গে জুড়ে শাসক শিবিরের বিরুদ্ধে সুর ছড়িয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দলের অন্দরেই মিলল না সেই অবস্থানের সমর্থন। অভিষেকের বক্তব্যের পরেই কার্যত উল্টো সুর শোনা গেল তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee) এবং বিধায়ক কুণাল ঘোষের গলায়। ফলে ইন্দ্রনীল-কাণ্ড ঘিরে নতুন করে সামনে এল তৃণমূলের কালীঘাট ও ক্যামাক স্ট্রিটের রাজনৈতিক দূরত্ব।
কী বলেছিলেন অভিষেক ?
ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেপ্তারির পর বুধবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, যাঁরা মেরুদণ্ড না বিকিয়ে লড়াই করছেন, তাঁরাই জেলে যাচ্ছেন। তাঁর এই মন্তব্যের ইঙ্গিত ছিল স্পষ্ট। ইন্দ্রনীলের গ্রেপ্তারিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ঘটনা হিসেবেই তুলে ধরতে চেয়েছিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। কিন্তু অভিষেকের এই বক্তব্যে সায় দিলেন না দলেরই দুই পরিচিত নেতা। বরং তাঁদের মন্তব্যে ইন্দ্রনীলকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক আরও জোরালো হল।
কুনাল-কল্যাণের নিশানায় ইন্দ্রনীল
শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Kalyan Banerjee) বক্তব্য, ইন্দ্রনীলের মতো কিছু মানুষ রাজনীতিতে এসেছিলেন ব্যবসা করতে। তাঁর কথায়, ”এরা সব ব্যবসা করতে এসেছিল!” ইন্দ্রনীলের রাজনৈতিক অবস্থান বদলের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন কল্যাণ। একসময় বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ইন্দ্রনীল পরবর্তী সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে জায়গা করে নেন। সেই প্রসঙ্গ টেনে কল্যাণের কটাক্ষ, ক্ষমতার পিছনে ঘোরাই ছিল কিছু মানুষের রাজনীতির উদ্দেশ্য।
অন্যদিকে, বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ সরাসরি কোনও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার তত্ত্বে সায় দেননি। বরং প্রশ্ন তুলেছেন ইন্দ্রনীলের নিজের অবস্থান নিয়েই।কুণালের বক্তব্য, সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরোনোর সময় কিংবা ব্যাঙ্কশাল আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের কথা বলার সুযোগ পেয়েছিলেন ইন্দ্রনীল। তাহলে তিনি কেন নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করলেন না?
উল্লেখ্য, নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই কালীঘাট ও ক্যামাক স্ট্রিটের সম্পর্ক নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। দলের অভ্যন্তরের ফাটলের জেরে দল ভেঙে ঋতব্রত শিবির আলাদা হয়েছে। তাদের একাংশেরই অভিযোগ ছিল অভিষেককে ঘিরে। এবার ইন্দ্রনীল-কাণ্ডে মমতা শিবিরের নেতাদের মধ্যেই বিপরীত অবস্থান পুরোনো বিতর্ককে আরও উসকে দিল। মমতা তৃনমূল দলের অন্দরেও অভিষেকের সমর্থন ক্রমশ কমছে বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের।


