30 C
Kolkata
Saturday, October 31, 2026
spot_img

‘আন্টি আর বেবির মধ্যে ভাব ভালোবাসা!’ গড়বেতার সভা থেকে এ কেমন আক্রমণ শুভেন্দুর?

কলকাতা: রাজনীতির মঞ্চে কটাক্ষ নতুন নয়। বিরোধীদের নিশানা করে তীব্র আক্রমণও নতুন কিছু নয়। কিন্তু সেই আক্রমণের ভাষা যখন ব্যক্তিগত খোঁচা থেকে সরাসরি ‘চুলের মুঠি ধরে জেলে ঢোকানোর’ হুঁশিয়ারিতে পৌঁছয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, রাজনৈতিক আক্রমণের সীমারেখা কোথায়? রামলীলা ময়দানে বিরোধীদের বিক্ষোভের আগে গড়বেতার সভা থেকে একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করে সেই প্রশ্নই উসকে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

গড়বেতায় বিজেপির ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে এদিন বাম ও তৃণমূল, দুই শিবিরকেই একযোগে আক্রমণ করেন শুভেন্দু। তবে রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত কটাক্ষও এদিন বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সিপিএমের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির সমীকরণ নিয়ে কটাক্ষ করতে গিয়ে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, ‘এখন আন্টি আর বেবির মধ্যে ভাব ভালোবাসা হয়ে গিয়েছে।’ এরপর ‘আন্টি’ বলতে তিনি যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই বুঝিয়েছেন, তা নিজেই স্পষ্ট করে দেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিরোধী শিবিরের নতুন সমীকরণকে বিদ্রূপ করতেই এই শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছেন তিনি।

শুধু ব্যক্তিগত কটাক্ষেই থেমে থাকেননি মুখ্যমন্ত্রী। বাম ও তৃণমূলকে একই বন্ধনীতে রেখে তাঁর সাফ মন্তব্য, ‘যাহাই তৃণমূল, তাহাই সিপিএম।’ গড়বেতার মানুষকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি দাবি করেন, এখানকার মানুষ দ্বিতীয় স্বাধীনতার আনন্দ উপভোগ করছেন। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের অত্যাচারে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন। এবার সেই অত্যাচারের জবাব দিয়েছে জনতা।

কলকাতা ও হাওড়ার পুরভোট নিয়েও এদিন বড়সড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)। তাঁর দাবি, আগামী পুরভোটে তৃণমূল ও বামেদের কার্যত ধুয়ে মুছে সাফ করে দেবে মানুষ। ফলতা, রেজিনগর ও নন্দীগ্রামের তিনটি আসনেই বিজেপির জয়ের প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, পুরভোটেও বিরোধী শিবিরের জন্য অপেক্ষা করছে শূন্য ফল।

তবে এদিনের বক্তব্যের সবচেয়ে চড়া সুর শোনা যায় ডাক্তার প্রণত টুডুর উপর হামলার প্রসঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ভোটের সময় প্রণত টুডুর মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ওই মামলার এফআইআরের কপি তাঁর কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেন তিনি। পাশাপাশি কতজন গ্রেপ্তার হয়েছেন, আর কতজন এখনও অধরা, তা নিজে খতিয়ে দেখার কথা জানান।

এরপরই তাঁর মন্তব্য, ‘যাঁরা গ্রেপ্তার হয়নি তাঁদের চুলের মুঠি ধরে জেলে ঢোকাতে হবে।’

এই বক্তব্য ঘিরেই নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলে। অপরাধের অভিযোগ থাকলে তদন্ত হবে, দোষ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী শাস্তিও হবে, এটাই আইনের শাসনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু একজন মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) মুখে এমন আক্রমণাত্মক শব্দবন্ধ কতটা গ্রহণযোগ্য? অপরাধ দমনের বার্তা দিতে গিয়ে রাজনৈতিক ভাষা কি কখনও আইনি প্রক্রিয়ার সীমারেখা ছাড়িয়ে যাচ্ছে?

গণতন্ত্রে বিরোধীদের আক্রমণ করা রাজনৈতিক নেতাদের অধিকার। তীব্র সমালোচনা, কড়া ভাষণ, রাজনৈতিক কটাক্ষ, সবই নির্বাচনী রাজনীতির পরিচিত ছবি। কিন্তু ব্যক্তিগত বিদ্রূপ এবং শাস্তির বিষয়ে আগাম হুঙ্কারের মধ্যে যে সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে, তা কি রাজনৈতিক নেতৃত্বের মনে রাখা উচিত নয়?

গড়বেতার মঞ্চে এদিন কার্যত তিনটি বার্তা দিলেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari), বাম ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে একজোট রাজনৈতিক আক্রমণ, বিরোধী নেতৃত্বকে ব্যক্তিগত কটাক্ষ এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি।

কিন্তু দিনের শেষে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, রাজনীতির লড়াই কি শুধুই বক্তব্যের লড়াই থাকবে, নাকি ক্রমশ ব্যক্তিগত আক্রমণ ও হুঁশিয়ারির ভাষাই হয়ে উঠবে রাজনৈতিক সংস্কৃতির নতুন পরিচয়? গণতন্ত্রে জেতা-হারার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ যে আইনের শাসন ও রাজনৈতিক শালীনতা, সেই সীমারেখা রক্ষা করার দায়িত্ব কি শাসক-বিরোধী উভয় পক্ষেরই নয়?

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন