Aaj lndia Desk, হুগলি : রাজ্যের আলুচাষিদের আর্থিক পরিস্থিতি ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। উৎপাদন করেও প্রত্যাশিত দাম না মেলায় বহু কৃষককে লোকসানের বোঝা বইতে হচ্ছে। বাজারে চাহিদার তুলনায় আলুর জোগান বেশি থাকায় বিক্রির ক্ষেত্রে তৈরি হয়েছে সমস্যা। তার উপর বিদেশে আলু রপ্তানিও স্বাভাবিক না হওয়ায় হিমঘরে জমে রয়েছে বিপুল পরিমাণ ফসল। এই পরিস্থিতিতে আলু চাষের পরিমাণ কমিয়ে বিকল্প ফসল উৎপাদনের দিকে এগোনোর পরামর্শ দিলেন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল (Dudh Kumar Mandal)। শুক্রবার হুগলির চুঁচুড়ায় (Chinsurah) তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
আলু চাষ কমানোর বার্তা কৃষিমন্ত্রীর
হুগলি কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (Hooghly Agricultural Training Centre) সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, রাজ্যে আলুর ফলন বেশি হলেও সেই অনুযায়ী বিক্রির বাজার নেই। বিদেশে রপ্তানি চালু না হলে কৃষকরা ন্যায্য দাম পাবেন না। তাই শুধু আলুর উপর নির্ভর না করে জমিতে অন্য ফসল ফলানোর বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। পাশাপাশি হিমঘরে (Cold Storage) আলু রাখার সময়সীমা আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
১৫টি জেলায় বিনামূল্যে আলুবীজ
কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে এবার রাজ্যের ১৫টি জেলায় এক কুইন্টাল করে আলুবীজ বিনামূল্যে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন দুধকুমার মণ্ডল। তাঁর আশা, রপ্তানির জটিলতা কাটলে আলুর বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে। একইসঙ্গে সারের কালোবাজারি বন্ধ করার উপর জোর দিয়েছেন তিনি। জমির স্বাভাবিক উর্বরতা বজায় রাখতে রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে জৈব সার (Organic Fertilizer) ব্যবহারের পরামর্শও দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী।
মন্ত্রীর পরামর্শে পাল্টা প্রশ্ন চাষিদের
তবে বিকল্প চাষের পরামর্শে খুব একটা আশ্বস্ত নন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। আলুচাষি প্রবীর কুমার নিয়োগী (Prabir Kumar Niyogi) জানিয়েছেন, চন্দ্রমুখী (Chandramukhi) ও জ্যোতি (Jyoti)—দুই ধরনের আলু চাষ করেই এবার ক্ষতির মুখে পড়েছেন তাঁরা। তাঁর দাবি, আলুর বন্ডের দাম মাত্র ৮০ টাকা। অথচ শ্রমিকের মজুরি এবং পরিবহণ খরচ মেটাতে গিয়ে লোকসানের পরিমাণ আরও বাড়ছে।
প্রবীরবাবুর বক্তব্য, আলুর জমিতে অন্য ফসল ফলিয়েও লাভ হয়নি। তাঁর অভিযোগ, এতদিন সার ও বীজ কেনার ক্ষেত্রেও কালোবাজারির সমস্যায় পড়তে হয়েছে কৃষকদের। এবার বিনামূল্যে বীজ দেওয়ার ঘোষণা কতটা কার্যকর হয়, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে আগামী মরশুমে কম জমিতে আলু চাষের পরিকল্পনা করছেন তিনি।
কৃষকদের জন্য কেন্দ্রের আর্থিক সহায়তা
এদিন গুজরাটে (Gujarat) প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি (PM-KISAN) প্রকল্পের অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। সেখানে দেশের ৯ কোটি ৩৪ লক্ষ কৃষককে মোট ১৮,৬৮০ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়। হুগলি কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অডিটোরিয়ামে সেই অনুষ্ঠানের সরাসরি সম্প্রচার দেখেন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী।
সব মিলিয়ে আগামী মরশুমে আলুচাষিদের কীভাবে লোকসানের হাত থেকে রক্ষা করা যায়, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে। বিকল্প ফসলের পরামর্শের পাশাপাশি উৎপাদিত আলুর উপযুক্ত দাম এবং বিক্রির বাজার নিশ্চিত করাই কৃষকদের কাছে সবচেয়ে বড় দাবি।


