Aaj lndia Desk,নয়াদিল্লি: ভারতীয় বায়ুসেনার (Indian Air Force) নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন এয়ার চিফ মার্শাল আশুতোষ দীক্ষিত (Air Chief Marshal Ashutosh Dixit)। শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই দায়িত্ব বুঝে নেন তিনি। তাঁর আগে এই পদে ছিলেন এয়ার চিফ মার্শাল এ পি সিং (Air Chief Marshal A P Singh)। দীর্ঘ ৪৩ বছরের কর্মজীবন শেষ করে অবসর গ্রহণ করেছেন তিনি। বায়ুসেনার নেতৃত্বে এই পরিবর্তন ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই নজর রয়েছে প্রতিরক্ষা মহলের।
সামরিক অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ নতুন প্রধান
বায়ুসেনার শীর্ষ পদে আসার আগে আশুতোষ দীক্ষিত উপ-প্রধান (Vice Chief of the Air Staff) হিসেবে কাজ করছিলেন। এর আগে ইন্টিগ্রেটেড ডিফেন্স স্টাফের প্রধান (Chief of Integrated Defence Staff) হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। সামরিক পরিকল্পনা তৈরি, কৌশল নির্ধারণ এবং তা কার্যকর করার ক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। প্রায় চার দশকের কর্মজীবনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন এই আধিকারিক।
একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অভিযানের সঙ্গে যুক্ত
ভারতের বিভিন্ন সামরিক অভিযান ও আন্তর্জাতিক মহড়ায় অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে আশুতোষ দীক্ষিতের। অপারেশন সফেদ সাগর (Operation Safed Sagar), অপারেশন রক্ষক (Operation Rakshak), কোপ ইন্ডিয়া (Cope India) এবং অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। বিশেষ করে অপারেশন সিঁদুরের সময় তাঁর দায়িত্ব ও অভিজ্ঞতা প্রতিরক্ষা মহলে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল।
একাধিক যুদ্ধবিমান ওড়ানোর অভিজ্ঞতা
শুধু প্রশাসনিক দক্ষতা নয়, বিমান চালানোর ক্ষেত্রেও যথেষ্ট পারদর্শী নতুন বায়ুসেনা প্রধান। একজন দক্ষ ফাইটার পাইলট এবং পরীক্ষামূলক বিমানচালক (Experimental Test Pilot) হিসেবে তাঁর পরিচিতি রয়েছে। মিরাজ-২০০০ (Mirage-2000), জাগুয়ার (Jaguar), মিগ (MiG), তেজস (Tejas), হক (Hawk), কিরণ (Kiran), অ্যান-৩২ (An-32) এবং ইলুশিন-৭৮ (IL-78)-সহ বিভিন্ন ধরনের বিমানে ৩৫০০ ঘণ্টারও বেশি উড়ানের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।
প্রশিক্ষণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটির নেতৃত্ব
ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমি (National Defence Academy), ডিফেন্স সার্ভিসেস স্টাফ কলেজ (Defence Services Staff College) এবং ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের (National Defence College) প্রাক্তনী আশুতোষ দীক্ষিত। তিনি একজন প্রশিক্ষিত ফ্লাইং ইনস্ট্রাক্টরও (Flying Instructor)। কর্মজীবনের শুরুতে এয়ার ফোর্স টেস্ট পাইলটস স্কুলে প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন। পরবর্তী সময়ে ফাইটার স্কোয়াড্রনের নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারতের গুরুত্বপূর্ণ বায়ুসেনা ঘাঁটির দায়িত্ব সামলেছেন।
নতুন দায়িত্বে এসে বায়ুসেনার আধুনিকীকরণ, যুদ্ধবিমানের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সামরিক প্রস্তুতি আরও মজবুত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির দিকে নজর দিতে হবে তাঁকে।


