Aaj India Desk, উত্তর ২৪ পরগনা : নৈহাটির বড়মা মন্দিরের (Boroma Temple) চিরপরিচিত স্লোগানেও এবার ‘সনাতনী’ ছোঁয়া! এতদিন মন্দিরের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল ‘ধর্ম যার যার, বড়মা সবার’ বার্তা। কালীপুজোর ঠিক আগে সেই স্লোগান সরিয়ে নতুন বার্তা সামনে আনল মন্দির কর্তৃপক্ষ। নতুন স্লোগান ‘বড়মায়ে ভক্তি, সনাতনের শক্তি’। সম্প্রীতির বার্তার পরিবর্তে সনাতনী চেতনার এই নতুন স্লোগান ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা। কিন্তু হঠাৎ কেন এই সিদ্ধান্ত?
সম্প্রীতির বার্তা থেকে সনাতনী চেতনা
দীর্ঘদিন ধরেই নৈহাটির বড়মার (Boroma Temple) সঙ্গে যুক্ত ছিল ‘ধর্ম যার যার, বড়মা সবার’ স্লোগানটি। ধর্মীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে বড়মার প্রতি মানুষের সার্বজনীন ভক্তির বার্তা দিত এই স্লোগান। তবে এ বছর কালীপুজোর আগে সেই পরিচিত স্লোগানের জায়গায় এসেছে নতুন বক্তব্য ‘বড়মায়ে ভক্তি, সনাতনের শক্তি’।
সম্প্রতি নৈহাটির বড়মা মন্দির (Boroma Temple) প্রাঙ্গণে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই নতুন স্লোগানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নৈহাটির বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়-সহ বড়কালী পুজো সমিতির কর্মকর্তা ও সদস্যরা।
কেন বদলানো হল স্লোগান?
স্লোগান পরিবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন মন্দির কমিটির সদস্য তথা মুখপাত্র অনন্ত চট্টোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরেই বড়মার ভক্ত, বিভিন্ন সংগঠন এবং রাজ্যের নানা প্রান্তের মানুষ পুরনো স্লোগান পরিবর্তনের আবেদন জানিয়ে আসছিলেন। তাঁদের আবেগ ও সনাতনী ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়েই নতুন স্লোগানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
একাধিক সংগঠনের দাবিতেই কি সিদ্ধান্ত?
মন্দির কর্তৃপক্ষের যুগ্ম সম্পাদকের বক্তব্য, একাধিক হিন্দু সংগঠন এবং বড়মার ভক্তরা এমন একটি স্লোগানের দাবি জানিয়েছিলেন, যেখানে সনাতনী চেতনার সরাসরি প্রতিফলন থাকবে। মন্দির কমিটির দাবি, বিশিষ্টজনদের সঙ্গে আলোচনা এবং সদস্যদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের পরেই নতুন স্লোগান চূড়ান্ত করা হয়েছে।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিসরে বিভিন্ন পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা চলছে। নৈহাটির বড়মার মতো জনপ্রিয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের পরিচিত স্লোগান বদল হওয়ার পর মন্দির কর্তৃপক্ষ রাজনৈতিক যোগের কথা অস্বীকার করলেও এর মধ্যে যে রাজনৈতিক প্রভাব আছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। একাধিক হিন্দু সংগঠনের এমন ‘সনাতনী’ দাবি মেনে বদল করা নতুন স্লোগান বিভাজনের রাজনীতিতে কতটা গ্রহণযোগ্যতা পায়, এখন সেদিকেই নজর।


