Aaj India Desk, কলকাতা: শ্রাবণের শেষ সোমবার তারা মায়ের দর্শনে এসে মর্মান্তিক পরিণতি। ভোরে ‘বিদেশিনী’ হোটেলে আগুন, ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু ৮ জনের। আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে, ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।
তারাপীঠে পুজো দিতে এসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কবলে পড়ে প্রাণ হারালেন আট পুণ্যার্থী। সোমবার ভোরে তারাপীঠ থানার কাছেই পুকুরপাড় এলাকায় ‘বিদেশিনী’ নামে একটি বেসরকারি হোটেলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং উপরাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণন।
প্রধানমন্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় শোকবার্তায় জানান, বীরভূমের অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন তিনি। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় সহায়তা করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবারে তারা মায়ের দর্শন ও পুজোর উদ্দেশ্যে বহু পুণ্যার্থী তারাপীঠে এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যেই কয়েকজন ওই হোটেলে ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পুলিশ ও প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে এবং বহু আবাসিককে নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব হয়। তবে সমস্ত প্রচেষ্টার পরেও আটটি প্রাণ রক্ষা করা যায়নি।
ভোর সাড়ে ৪টেয় হোটেলে আগুন
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, সোমবার ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ হোটেলের গ্রাউন্ড ফ্লোর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অধিকাংশ আবাসিক তখন গভীর ঘুমে থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। হোটেলের ভিতর ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি দেখতে পেয়ে পুলিশ ও দমকলকে খবর দেন।
দমকলকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করেন। দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং আটকে থাকা আবাসিকদের উদ্ধার করা হয়। ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং তাঁদের হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে।
গাফিলতি প্রমাণ হলে কঠোর ব্যবস্থা
অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, ঘটনায় কারও গাফিলতি প্রমাণিত হলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না। আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণও যথাসময়ে ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ঘটনাস্থলে বীরভূমের জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, স্থানীয় বিধায়ক ধ্রুব সাহা এবং দমকল দফতরের প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী উদ্ধার ও ত্রাণকার্যের পরিস্থিতি সরেজমিনে তদারকি করছেন। নিহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তা দিতে মেঘালয় সরকার এবং আলিপুরদুয়ারের স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।


