কলকাতা: ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসারই (Presiding Officers) থাকেন ভোটকেন্দ্রের সর্বোচ্চ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। ভোটার শনাক্তকরণ থেকে শুরু করে ইভিএম বা ব্যালটের মাধ্যমে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ পরিচালনা, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং পোলিং কর্মকর্তাদের কার্যক্রম তদারকির মাধ্যমে পুরো কেন্দ্র পরিচালনার ভার থাকে তাঁর ওপর। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রিসাইডিং অফিসারদের (Presiding Officers)।
উল্লেখ্য, গতকাল অর্থাৎ রবিবার ভোটকর্মীদের ব্যালটে ভোটগ্রহণে ‘গোপনীয়তা’ নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মধ্যমগ্রামের একটি স্কুল। অভিযোগ ওঠে, পোস্টাল ব্যালটে ভোটকর্মীদের ভোটগ্রহণে গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়নি। এই আবহেই প্রিসাইডিং অফিসারদের জন্য নির্দেশিকা জারি করল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)।
এই কাজ না করলেই বিপদে পড়বেন প্রিসাইডিং অফিসাররা!
রাজ্যের সিইও দফতর থেকে সব জেলাশাসকদের কাছে একটি নস্তিশ পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। যেখানে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী ভোটগ্রহণের আগে ডিসট্রিবিউশন সেন্টারে প্রিসাইডিং অফিসারদের (Presiding Officers) জন্য ২০ থেকে ৩০ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ লাস্ট মিনিট ব্রিফিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হবে। এই ব্রিফিংয়ে ভোট পরিচালনার বিভিন্ন দিক, নিয়ম-কানুন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দায়িত্ব পালনের মূল বিষয়গুলো আবারও বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হবে, যাতে ভোটকর্মীরা শেষ মুহূর্তে তাদের করণীয় সম্পর্কে সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত থাকতে পারেন।
ব্রিফিং শেষে প্রিসাইডিং অফিসারদের একটি লিখিত মুচলেকা প্রদান করতে হবে। ওই নথিতে উল্লেখ থাকবে যে তাঁরা “প্রিসাইডিং অফিসারের (Presiding Officers) কর্তব্যসমূহ” শীর্ষক পুস্তিকা যথাযথভাবে পড়েছেন এবং নির্বাচন কমিশনের সব নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করবেন। অর্থাৎ, ভোট পরিচালনার প্রতিটি ধাপে কমিশনের বিধিনিষেধ ও নির্দেশ মেনে চলার অঙ্গীকারই এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) নোটিসে আরও বলা হয়েছে, প্রিসাইডিং অফিসারদের (Presiding Officers) স্বাক্ষরিত এই মুচলেকা ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র নির্বাচন কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে হবে। এই দায়িত্ব থাকবে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারদের ওপর, যাতে পরবর্তীতে প্রয়োজনে তা যাচাই ও পর্যালোচনা করা যায়।


