Aaj India Desk, কলকাতা : রাজ্যে নারীদের বিরুদ্ধে হিংসার অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে। ফলে সেই অভিযোগগুলির যথাযথ তদন্ত এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা রোধে এবার বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, মহিলাদের উপর নির্যাতন ও হিংসার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিশন গঠন করছে রাজ্য সরকার। (Women safety)
সদস্য সচিব ও কমিশনের দায়িত্বে কে ?
নবগঠিত কমিশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে কলকাতা হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সম্পৎ চট্টোপাধ্যায়কে। দীর্ঘ আইনি অভিজ্ঞতা এবং নিরপেক্ষ ভাবমূর্তির কথা মাথায় রেখেই তাঁকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে কমিশনের সদস্য সচিব পদে নিয়োগ করা হয়েছে রাজ্য পুলিশের আইপিএস অফিসার দময়ন্তী সেনকে। অতীতে নারী নির্যাতন সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল মামলার তদন্তে তাঁর ভূমিকা প্রশাসনিক মহলে প্রশংসিত। ২০১২ সালের বহুল আলোচিত পার্ক স্ট্রিট গণধর্ষণ মামলার তদন্তে তাঁর নেতৃত্বেই কলকাতা পুলিশ মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে। ২০২২ সালে কলকাতা হাই কোর্ট ডেগঙ্গা, মাতিয়া, ইংরেজবাজার ও বাঁশদ্রোণীর চারটি ধর্ষণ মামলার তদন্ত তদারকির দায়িত্বও তাঁর উপরেই অর্পণ করেছিল। তাঁর সেই অভিজ্ঞতাকেই কাজে লাগাতে চাইছে সরকার। (Women safety)
দ্রুত তদন্ত ও নিরাপত্তায় জোর
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আইন ও প্রশাসনের অভিজ্ঞ দুই ব্যক্তিকে নিয়ে গঠিত এই কমিশন নারীদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। একই সঙ্গে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নিশ্চিত করার দিকেও জোর দেওয়া হবে। (Women safety)
উল্লেখ্য, সম্প্রতি আরজি কর মেডিকেল কলেজের ঘটনাসহ একাধিক উচ্চপ্রোফাইল মামলা রাজ্যজুড়ে নারী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। মহিলা কমিশন ও মানবাধিকার সংগঠনগুলি অভিযোগ করেছে যে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাবে এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অনেক ঘটনার সঠিক তদন্ত হচ্ছে না। গত এক বছরে ধর্ষণ, গণধর্ষণ, গার্হস্থ্য হিংসা ও অ্যাসিড নিক্ষেপসহ বিভিন্ন ধরনের নারী নির্যাতনের প্রায় দুই হাজার অভিযোগ দায়ের হয়েছে। বিশেষ করে কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ ও মালদহে এই অভিযোগের পরিমাণ যথেষ্ট বেশি। এই পরিপ্রেক্ষিতেই নারী সুরক্ষা জোরদার করতে বিশেষ পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। তবে এর বাস্তবায়ন ও কর্ম পরিকল্পনা কেমন হবে সেদিকেই নজর রাজ্যবাসীর।


