Aaj India desk, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের ভোট প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন।ঝাড়গ্রামে একটি রাস্তার ধারের দোকান থেকে নির্বাচনী সভা করার মাঝেই তিনি ঝালমুড়ি কিনেছিলেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ বাড়ানই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য। সেই নিয়ে রাজ্য রাজনীতি জুড়ে বেশ আলোড়ন পড়ে যায়। রাস্তার ধারে হকাররাই মূলত ঝালমুড়ি বিক্রি করেন। ক্ষমতায় জেতার পর এই হকারদেরই তুলে দিয়েছে (Hawker Eviction) বিজেপি সরকার। যাদের অনেকেই ভোট দিয়েছিলেন বিজেপিকেই।
হকারদের বক্তব্য কি ?
শিয়ালদহ ও হাওড়া দুটি স্টেশনেই হকারদের দোকান তুলে দেওয়া হয়েছে (Hawker Eviction)। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য এবং পরিচ্ছন্নতার কথা। হকারদের প্রশ্ন, “আমাদের তুলে দিলেই কি যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য থাকবে?” জীবিকার প্রয়োজনে তাদের কেউ কেউ বিকল্প পথ নিয়েছেন। লুকিয়ে চুরিয়ে বিক্রি করছেন পরোটা, ঘুগনি। সেখানেও কেস খাবার ভয় রয়েছে তাদের। এমনই একজন বিক্রেতা জানালেন, ” অমিত শাহ নরেন্দ্র মোদীর আচ্ছা দিন চলছে তো। তাই আমাদের আর জায়গা নেই। আমাদের তো উঠিয়ে দিল, কিন্তু এই দোকান গুলো রেখে দিল। ওরা কি বেশি পয়সা দেয়? আমাদের পরিবারের কি হবে, তার জন্য কিছু ভাবলো না।” বস্তুত ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এই হকারদের পুনর্বাসনের কথা বলা হয়নি।
স্টেশনগুলি কি সত্যিই পরিষ্কার হয়েছে?
আজ শিয়ালদহ স্টেশনে গিয়ে দেখা গেল সেখানে হকার তো নেই, তবুও যাত্রীদের চলাফেরার জায়গা কিন্তু বাড়েনি। কারণ প্রতিদিনের মত যাত্রীরাই ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে রয়েছেন, ফলে জায়গার অভাব স্পষ্ট। এছাড়া কোনো দোকান না থাকলেও প্ল্যাটফর্ম এবং রেলওয়ে ট্র্যাক সেই নোংরা হয়েই আছে কারণ যাত্রীরাই নোংরা করছেন। কোনো কোনো যাত্রীর বক্তব্য,” হয়ত অবৈধভাবে বসেছিল এই হকাররা। কিন্তু এদের কাছে কম পয়সায় খাবার পাওয়া যেত। সেটা এখন বন্ধ হলো।” শিয়ালদহ স্টেশনে ঝালমুড়িওয়ালাদের অভাব দেখে জনৈক যাত্রীর মন্তব্য,” ঝালমুড়ি খেয়ে দোকানদারকেই তুলে দিলেন (Hawker Eviction) প্রধানমন্ত্রী।”


