Aaj India Desk, কলকাতা : মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জারি করা নির্দেশিকার পর থেকেই কলকাতা ও শহরতলির একাধিক রেলস্টেশনে অবৈধ দোকান ও হকার উচ্ছেদে (Hawker Eviction) জোরদার অভিযান চালাচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষ। সোনারপুর, শিয়ালদা ও হাওড়া স্টেশনে ইতিমধ্যেই বহু হকারকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে উচ্ছেদের পর স্টল লাটে উঠলেও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি ফেরি ব্যবসা। বরং নিজেদের বুদ্ধি খাটিয়ে ফের ময়দানে নেমে পড়েছেন বহু হকার।
উচ্ছেদের পর বদলেছে পদ্ধতি
স্টেশন চত্বর ও প্ল্যাটফর্ম থেকে স্থায়ী দোকান ও স্টল সরিয়ে দেওয়ার পর অনেক হকার এখন হাতে ব্যাগ বা বড় থলে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সেই ব্যাগের মধ্যেই রাখা হচ্ছে বিভিন্ন সামগ্রী। সুযোগ বুঝে যাত্রীদের কাছে গোপনে বিক্রি করা হচ্ছে খাবার, পানীয়, ছোটখাটো ব্যবহার্য জিনিস এবং অন্যান্য পণ্য। প্রকাশ্যে দোকান বসানো বন্ধ হওয়ায় অনেকেই এভাবে ‘মোবাইল ফেরি’র পথে হাঁটছেন।
কেনো এভাবে বিক্রি করছেন ?
স্টেশনের হকারদের এই নতুন কৌশলের পিছনে রয়েছে কঠিন জীবিকার লড়াই। বহু মানুষ বছরের পর বছর ট্রেনযাত্রীদের উপর নির্ভর করেই সংসার চালিয়েছেন। উচ্ছেদ অভিযানে (Hawker Eviction) মুহূর্তের মধ্যে হারিয়েছে তাদের রোজগারের একমাত্র ভরসা। অনেকের বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা-মা, পড়ুয়া সন্তান কিংবা অসুস্থ পরিবারের সদস্য রয়েছেন। নিয়ম ভাঙার অভিযোগ থাকলেও, পেটের দায়ে অনেকেই আবার ফিরছেন স্টেশনের ভিড়ে। বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করার ফলে স্থায়ী দোকান না থাকলেও হাতে ব্যাগ নিয়েই এই তপ্ত রোদে ঘুরে ঘুরে ফেরি করতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা। সুযোগ পেলেই বিক্রি করছেন ঘুঘনি, পরোটা, নিমকি সহ ছোটখাটো জিনিস।
যাত্রীদের মধ্যে নেই ক্ষোভের চিহ্ন
যাত্রীদের একাংশের মতে, হকার উচ্ছেদের ফলে স্টেশন ও প্ল্যাটফর্ম অনেকটাই ফাঁকা হয়েছে ঠিকই কিন্তু সেই জায়গায় শুয়ে বসে আছেন অন্যান্য মানুষ। ফলে অন্যান্য দিনের মতোই ট্রেনে ওঠানামা করতে একই অসুবিধা হচ্ছে। অথচ স্টেশনের হকাররা বহুদিন ধরেই যাত্রীদের দৈনন্দিন প্রয়োজন মিটিয়ে আসছিলেন বলেও জানান তাঁরা। জল, বিস্কুট, চা বা ছোটখাটো দরকারি জিনিস সহজে পাওয়া যেত বলেই অনেকের সুবিধা হত। তাদেরকে এভাবে উচ্ছেদ করে দেওয়ায় খানিক বিরক্তই নিত্যযাত্রীরা। তাঁদের মতে, সম্পূর্ণ উচ্ছেদের বদলে নিয়ন্ত্রিত ও নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মধ্যে হকারদের রাখার পরিকল্পনা করা যেতে পারতো। অফিস যাত্রীদের বক্তব্য, অফিসের আগে কম খরচে স্টেশনের হকারদের থেকে পেট ভরে খাবার খেতে পারতেন তাঁরা। কিন্তু এখন সেই হকারদের উঠিয়ে (Hawker Eviction) দেওয়ায় অতিরিক্ত খরচ ও সমস্যার মুখে পড়েছেন তাঁরা। ফলে এভাবে নতুন পদ্ধতিতে হকাররা ফিরে আসায় ক্ষোভের বদলে খুশিই অধিকাংশ মানুষ।


