Aaj India Desk, পূর্ব মেদিনীপুর: সম্প্রতি নন্দীগ্রামকে (Nandigram) ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) ঘুরে বেড়াচ্ছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিভিন্ন ভিডিও, পোস্ট এবং রাজনৈতিক আলোচনায় দাবি করা হচ্ছে, রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-কে হারানোর জন্য নাকি বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করা হয়েছিল। এমনও অভিযোগ ঘুরছে যে, এলাকায় বাড়ি বাড়ি খামের মধ্যে করে টাকা পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল এবং সেই টাকার উৎস বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও বিদেশ বলেও জানা যাচ্ছে।
ভাইরাল পোস্টগুলিতে আরও দাবি করা হয়েছে যে, গোটা ঘটনার তদন্তে ইডি ও সিবিআইকে নামানো উচিত। পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)-র নাম টেনে তদন্তের দাবিও উঠতে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টগুলিতে। যদিও এই সমস্ত দাবির পক্ষে কোনও সরকারি প্রমাণ বা নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি।
চলতি বছরের নন্দীগ্রাম ভোটে একসময় শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত পবিত্র কর লড়াই করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি শুভেন্দুর কাছে হেরে যান। এদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়ানো বিভিন্ন ভিডিও ও পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, শুভেন্দু অধিকারীকে হারানোর লক্ষ্যেই নাকি প্রায় ১০০ কোটি টাকার বাজেট রাখা হয়েছিল। এবং সেই টাকা আইপ্যাকের মদতেই ভোটের আগে নন্দীগ্রামের বহু বাড়িতে খামের মাধ্যমে পৌঁছানো হয়েছিল।
ভাইরাল হওয়া বক্তব্যগুলিতে আরও বলা হচ্ছে, অনেক সাধারণ মানুষই নাকি জানিয়েছেন যে তাঁদের ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নন্দীগ্রামের মানুষ টাকা নিলেও ভোট তারা বিজেপিকেই দিয়েছে, এমনও দাবি করা হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন পোস্টে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, এই টাকার উৎস যেহেতু বাংলাদেশ পাকিস্তান ও কিছু অংশ বিদেশ, সেহেতু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কে কোমরের দড়ি বেঁধে গ্রেফতার করা উচিত। ঠিক এই কারণেই এই ঘটনায় ইডি ও সিবিআই তদন্তের দাবিও উঠতে দেখা যাচ্ছে। তবে এই সমস্ত দাবি ও অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হয়নি।
নন্দীগ্রাম নিয়ে ছড়িয়ে পড়া এই বিতর্কের মাঝেই অনেকেই আবার পুরনো এক ভাইরাল রাজনৈতিক বিতর্কের কথাও মনে করিয়ে দিচ্ছেন। কয়েক মাস আগে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবির (Humayun Kabir)-কে ঘিরে ১,০০০ কোটি টাকার একটি তথাকথিত রাজনৈতিক ‘ডিল’-এর অভিযোগও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়েছিল। সেই সময় তৃণমূলের তরফে প্রকাশিত একটি ভাইরাল ভিডিওতে দাবি করা হয়েছিল, বিজেপির সঙ্গে গোপন সমঝোতার মাধ্যমে তাদের হারানোর পরিকল্পনা হয়েছিল। ওই বিতর্কে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব-সহ একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নাম উঠে এসেছিল। প্রথমে ভিডিওটিকে AI-তৈরি বলে দাবি করা হলেও পরে তা নিয়েও তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়।
এখন আবার নতুন করে নন্দীগ্রাম নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এই পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়ানো এই দাবিগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।


