Aaj India desk, কলকাতা: গত ৪ঠা মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে হিংসার (post poll violence) খবর আসছিল। বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূলের পার্টি অফিস দখল করা ভাঙচুর করা আগুন লাগানোর অভিযোগ ওঠে বিজেপির বিরূদ্ধে।এই মর্মে পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী ও তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে শীর্ষণ্য বন্দোপাধ্যায় একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন কলকাতা হাইকোর্টে। এই মামলায় আজ সওয়াল করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যা নিয়ে তুমুল চর্চা চলে বঙ্গ রাজনীতিতে।
মমতার সওয়াল
এদিন হাইকোর্টে প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের এজলাসে এই মামলার শুনানি হয়। সওয়াল করার সময় মমতা বলেন,”রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী, সমর্থক, মহিলা এবং সংখ্যালঘুদের ওপর ব্যাপক রাজনৈতিক হিংসা (post poll violence) ও আক্রমণ চালানো হচ্ছে। বহু তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থককে তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে জোর করে ঘরছাড়া করা হয়েছে এবং তাঁদের ঘরবাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে।পুলিশ তার ভূমিকা পালন করছে না এবং বিভিন্ন এলাকায় এফআইআর (FIR) দায়ের করতে চাইছে না।” সওয়াল চলাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জোর দিয়ে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ কোনো বুলডোজার রাজ্য নয়”। রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও হিংসার আবহ থেকে বাংলার সাধারণ নাগরিক ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে রক্ষা করার জন্য তিনি হাই কোর্টের কাছে জোরালো আবেদন জানান।
হাইকোর্ট কি নির্দেশ দিল?
মমতার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাই কোর্ট পুলিশ ও রাজ্যকে বেশ কিছু নির্দেশ দিয়েছে। রাজ্যের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশকে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা (post poll violence) ঘটলে দ্রুত এফআইআর (FIR) দায়ের করতে হবে। কোনো ব্যক্তির বাড়ি বা দোকান ভাঙচুর করা হলে অথবা কাউকে ঘরছাড়া করা হলে, তাঁদের বাড়িতে ফেরানোর এবং সম্পূর্ণ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে পুলিশকে। এছাড়াও আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য সরকারকে আদালতে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। সমস্ত রিপোর্ট খতিয়ে দেখে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হবে বলে জানিয়েছে আদালত।


