Aaj India Desk, কলকাতা : কলকাতা হাইকোর্ট চত্বরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে বিক্ষোভ ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। এরপরেই তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ ব্যানার্জি (Kalyan Banerjee) বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং সরাসরি পুলিশকে হুঁশিয়ারি দেন।
কী বলেন তিনি ?
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee) বলেন, ভোট-পরবর্তী হিংসায় যাঁরা ঘরছাড়া হয়েছেন, তাঁদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে বাড়ি ফেরানো পুলিশের দায়িত্ব। সেই কাজে কোনও অবহেলা হলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। তাঁর বক্তব্য, “পুলিশ যদি নিজেদের দায়িত্ব পালন না করে, তাহলে আমি আদালত অবমাননার মামলা করব। আগেও দু’জন IPS অফিসারকে জেলে পাঠিয়েছি। আইন অনুযায়ী কাজ না করলে কাউকে ছাড়া হবে না।”
মমতাকে ঘিরে বিক্ষোভ
উল্লেখ্য, হাইকোর্ট চত্বর ছাড়ার সময় মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে স্লোগান ও ধাক্কাধাক্কির অভিযোগ ওঠে। সেই প্রসঙ্গে কল্যাণ ব্যানার্জি বলেন, গত কয়েক দশকে আদালত চত্বরে এমন রাজনৈতিক পরিস্থিতি তিনি দেখেননি।তিনি আরও দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৮৫ সাল থেকে বার কাউন্সিলের সদস্য। তাই তাঁর আইনি পরিচয় নিয়ে অযথা বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তৃণমূল সাংসদ।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপির প্রতিক্রিয়াকেও আক্রমণ করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই ঘটনায় জানিয়েছিলেন যে বিজেপি কোনো মহিলাকে এই ধরনের কথা বলতে পারে না। বরং এগুলি তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে “জনগণের এই স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভ”। তিনি আরও বলেন যে, কৃতকর্মের ফল কখনও পিছু ছাড়ে না। আজ যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার জন্য তৃনমূলের নিজের দুর্নীতি দায়ী। তাঁর সেই মন্তব্যের জবাবে কল্যাণ পালটা বলেন, ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা হচ্ছে।
হাইকোর্ট চত্বরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাত আরও প্রকট হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। এখন পুলিশ প্রশাসন বা রাজ্য সরকার এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই থাকবে নজর।


