Aaj India desk, নয়াদিল্লি: বাবা মা পড়িয়েছিলেন কষ্ট করে। ছেলে ভেবেছিল এবার দুর্দান্ত রেজাল্ট করবে নিট (NEET exam)পরীক্ষায়। আগের দুবার ব্যর্থ হওয়ার পর জান লড়িয়ে প্রস্তুতি নিয়ে গত ৩ মে পরীক্ষা দিয়েছিল সে। কিন্তু উত্তরপ্রদেশের লখিমপুরের খেরির গঙ্গোত্রী নগর মহল্লার বাসিন্দা হৃত্বিক মিশ্র জানতো না যে বাতিল হয়ে যাবে পুরো পরীক্ষা। এত পরিশ্রম করে পরীক্ষা দেওয়ার পরেও আবার পরীক্ষায় বসতে হবে তাকে। জানার পরে আর নিজেকে ঠিক রাখতে পারল না ২১ বছরের তরতাজা তরুণ NEET পরীক্ষার্থী।
কি হয়েছিল?
গত ৩ মে হৃতিক মিশ্র নামে ওই ছাত্র পরীক্ষা (NEET exam) দেওয়ার পর বাবাকে জানিয়েছিল যে, এই বছরের পরীক্ষা অত্যন্ত ভালো হয়েছে এবং এবার সে নিশ্চিতভাবে মেডিকেল কলেজে সুযোগ পাবে। হৃতিক ছিল তাঁর গোটা পরিবারের স্বপ্ন। কিন্তু পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরপরই দেশজুড়ে NEET-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া এবং পরীক্ষা বাতিলের খবর ও আলোচনা শুরু হয়। এরপরই চুপচাপ হয়ে গিয়ে লোকজনের সাথে কথা বলা বন্ধ করে দেয় হৃত্বিক।বছরের পর বছর করা কঠোর পরিশ্রম নিমেষের মধ্যে বিফলে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় সে তীব্র মানসিক অবসাদে ভুগতে শুরু করে চরম পদক্ষেপ নেয় সে।
কী পদক্ষেপ নিল সে?
বুধবার হৃতিক নিজেকে নিজের ঘরের ভেতর বন্দি করে ফেলে। বৃহস্পতিবার অনেকক্ষণ হয়ে যাওয়ার পরেও ঘরের দরজা না খোলায় এবং ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া না যেতে, বাড়ির লোক চিন্তিত হয়ে পড়েন। এরপর ঘরের দরজা ভেঙে ঢুকলে হৃতিককে ফ্যানের সাথে ফিতে দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। ঘটনা জানাজানি হতেই থানা থেকে বড় পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফরেন্সিক টিম এনে ঘর থেকে বিভিন্ন নমুনা ও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করানো হয়। তবে প্রাথমিক তল্লাশিতে ঘর থেকে কোনো লিখিত সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়নি। দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হৃতিকের বাবার দাবি, প্রশ্নফাঁসের (NEET exam) খবরের পরে চরম অনিশ্চয়তা ও মানসিক ক্লান্তিতে ভুগেই এই চরম পথ বেছে নিয়েছেন তাঁর ছেলে।


