Aaj India Desk, পূর্ব মেদিনীপুর : ভোট প্রচার ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল নন্দীগ্রাম (Nandigram)-এর জেলেমারা এলাকা। তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে বচসা থেকে হাতাহাতি ও মারপিটের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে দুপক্ষেরই বেশ কয়েকজন আহত হন।
বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল কর্মীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছে যা ঘিরে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে।ভোটের আগে হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের কেন্দ্রে উঠে এল নন্দীগ্রাম ( Nandigram)। জেলেমারা এলাকায় তৃণমূল ও বিজেপি দুই পক্ষই নিজেদের প্রার্থীর প্রচারে ব্যস্ত ছিল। সেই সময় হঠাৎ করেই শুরু হয় বচসা, যা মুহূর্তে হাতাহাতি ও মারধরে রূপ নেয়। অভিযোগ, পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে ধারালো অস্ত্র নিয়েও হামলা চালানো হয়।
সংঘর্ষে দুপক্ষেরই বেশ কয়েকজন কর্মী-সমর্থক আহত হন। তাঁদের নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশালিস্ট হসপিটাল ( Nandigram Super Speciality Hospital)-এ ভর্তি করা হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, তাদের পক্ষেও একাধিক কর্মী জখম হয়েছেন। শুধু তাই নয়, এলাকায় বেশ কয়েকটি বাইক ভাঙচুর করে তছনছ করে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় নন্দীগ্রাম থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। আপাতত নতুন করে অশান্তির খবর না মিললেও, এলাকায় চাপা উত্তেজনা বজায় রয়েছে নিরাপত্তা জোরদার করতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুটমার্চ চলছে।
রাজনৈতিক দিক থেকেও নন্দীগ্রাম এখন নজরের কেন্দ্রবিন্দু। শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-র শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই কেন্দ্রে তৃণমূলের কাছে লড়াইটা কার্যত প্রেস্টিজ ফাইট। ভোটের আগে এখান থেকেই কড়া বার্তা দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তাঁর অভিযোগ, এলাকায় ভয় দেখানো ও চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তবে মানুষ প্রতিবাদের পথ বেছে নেবে বলেই তাঁর বিশ্বাস। তিনি দাবি করেন, নন্দীগ্রামের মানুষ মাথা উঁচু করে ভোট দেবেন এবং তৃণমূল প্রার্থী ২৫ হাজারের বেশি ব্যবধানে জয়ী হবেন। একদিকে ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-কে হারানোর লক্ষ্যে এগোচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী, অন্যদিকে নন্দীগ্রাম দখলে মরিয়া তৃণমূল। এই টানটান লড়াইয়ের আবহেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মঞ্চ থেকে বদলার সুরও শোনান যা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে ভোটের উত্তাপ।


