Aaj India Desk, পূর্ব মেদিনীপুর : ভোটের মাত্র চারদিন আগে নন্দীগ্রামে প্রচারে গিয়ে বিজেপিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। জনসভা থেকে তিনি দাবি করেন, “মা-বোনেরা যদি প্রতিরোধের রাস্তা বেছে নেন, তাহলে তৃণমূলের প্রার্থী ২৫ হাজার ভোটে জয়ী হবেন।” অভিষেকের এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। একই সঙ্গে নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)- ও পাল্টা তৃণমূলকে হারানোর চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন, ফলে ভোটের আগে এই কেন্দ্র কার্যত রাজনৈতিক উত্তাপের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। দুই শিবিরের এই কড়া বার্তা ও পাল্টা আক্রমণে নন্দীগ্রামের ভোটযুদ্ধ আরও হাইভোল্টেজ হয়ে উঠেছে, যা শেষ মুহূর্তে ভোটের সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)দলীয় টার্গেট স্পষ্ট করে দেন। তিনি বলেন, “এখানে ধমকানো -চমকানো চলছে, নোটিস পাঠানো হচ্ছে। আমি সব খবর রাখি। আমি অনুরোধ করে গেলাম, কেউ ভয় পাবেন না। এলাকায় প্রতিবাদ-প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”
নন্দীগ্রামে ভোটের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল তৃণমূল- বিজেপির পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে। শুভেন্দু অধিকারীর গড় এই কেন্দ্রে প্রেস্টিজ ফাইটের আবহের মধ্যেই দুই শিবিরের মধ্যে কথার লড়াই তীব্র আকার নিয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের জবাবে কড়া সুরে পাল্টা আক্রমণ করেন নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “ওঁর পিসিকে নন্দীগ্রাম আগেই প্রত্যাখ্যান করেছে। এটা মাথায় রেখে কথা বলা উচিত। নন্দীগ্রামের মানুষ আমাকে চেনে। এখানে এসব আওয়াজ দিয়ে কোনও লাভ নেই।”এখানেই থেমে না থেকে তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “যদি এতই দম থাকে, তাহলে ওঁর পিসি কেন আমার বিরুদ্ধে দাঁড়ালেন না?”ভোটের মুখে এই পাল্টা বক্তব্যে নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, যা শেষ মুহূর্তে নির্বাচনী লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে ভবানীপুরে হারানোকে লক্ষ্য করে এগোচ্ছে বিজেপি, অন্যদিকে নন্দীগ্রাম পুনর্দখলে মরিয়া তৃণমূল ফলে দুই কেন্দ্র ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে চরম উত্তেজনা। নন্দীগ্রামের মঞ্চ থেকে এদিন কার্যত হুঁশিয়ারির সুরে বার্তা দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “বদলা হবে? বদলা হবে? আমি কথা দিয়ে যাচ্ছি, ৪ তারিখের পর DJ বাজবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আগেই বলেছি, ৪ তারিখ বারোটার পর দেখা হবে। খেলা হবে। যতই রামের নাম নাও, বিজেপি এবার নন্দীগ্রামে হারবে। কেউ বাঁচাবে না।”অভিষেকের এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। পাল্টা কড়া জবাব দেন নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “ওঁকে বলছি, নন্দীগ্রাম ধরে রাখব, আর ভবানীপুরে ওঁর পিসিকে হারাব।”এছাড়া সম্প্রতি ডায়মন্ড হারবার মডেলে নন্দীগ্রামে সেবাশ্রয় ক্যাম্প শুরু করার কথাও তুলে ধরেন অভিষেক। তিনি জানান, ব্লক ও টাউন স্তরে উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দিতে এই ধরনের শিবির চালু করা হবে।তৃণমূল এবার নন্দীগ্রামে প্রার্থী করেছে শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত পবিত্র করকে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই লড়াই কার্যত ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক দুই স্তরেই প্রেস্টিজ ফাইটে পরিণত হয়েছে।শেষ পর্যন্ত নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা স্পষ্ট হবে ভোটের ফলেই।


