Aaj India Desk, পাটনা : এবার মিড-ডে মিল (Midday Meal) খেয়েই অসুস্থ হয়ে পড়ল অন্তত ৪০ জন পড়ুয়া। ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের নালন্দা জেলার পারসা মিডল স্কুলে। মঙ্গলবার খাবার খাওয়ার পরই কয়েকজন পড়ুয়া গলা জ্বালা ও তীব্র পেটে ব্যথার কথা জানায়। দ্রুত তাঁদের সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
স্কুলে এদিন ভাতের সঙ্গে আলু-সয়াবিনের তরকারি পরিবেশন করা হয়েছিল। পড়ুয়াদের অভিযোগ, তরকারিতে নুনের বদলে সাবান বা ডিটারজেন্টের গুঁড়ো মেশানো হয়েছিল। খাবারের পরেই কয়েকজনের গলা জ্বালা ও পেটে ব্যথা শুরু হয়। নালন্দার সিভিল সার্জন জয়প্রকাশ সিং ঘটনাটিকে প্রাথমিকভাবে ফুড পয়জনিং বলে জানিয়েছেন। তবে হাসপাতালে ভর্তি সমস্ত শিশুর অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল।
কীভাবে ঘটল এমন ঘটনা?
স্কুলের প্রধান শিক্ষক শৈলেন্দ্র কুমার সিং জানিয়েছেন, ঘটনাটি ‘ভুলবশত’ ঘটেছে। তাঁর দাবি, রান্নাঘরে থাকা নুনের বোতল ভেবে এক কর্মী ভুল করে ডিটারজেন্ট পাউডার খাবারে দিয়ে ফেলেন। প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য অনুযায়ী, কয়েকজন পড়ুয়া অতিরিক্ত নুন চাওয়ার পর ওই কর্মী ভুলটি করেন। স্কুলের মিড-ডে মিল (Midday Meal)একটি এনজিও সরবরাহ করে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তবে প্রধান শিক্ষকের এই বক্তব্য এখনও নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছেন নালন্দার জেলা শিক্ষা আধিকারিক (DEO) হেমচন্দ্র। খাবারে ডিটারজেন্ট মেশানোর ওই অভিযোগ এখনই মেনে নিচ্ছেন না তিনি। DEO জানিয়েছেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। হাসপাতাল থেকে চিকিৎসকদের মেডিক্যাল রিপোর্ট পাওয়ার পরেই শিশুদের অসুস্থতার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। গাফিলতি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ঘটনার খবর পেয়ে বিহারশরীফ সদর হাসপাতালে শিশুদের দেখতে যান নালন্দার স্থানীয় বিধায়ক তথা বিহারের গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রী শ্রবণ কুমার। চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে শিশুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি। তিনি বলেন, কোথায় এবং কীভাবে গাফিলতি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনও কর্মীর গাফিলতি প্রমাণিত হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে কোনও আপস করা হবে না বলেও জানান তিনি।
জেলার স্কুলগুলিতে নজরদারির নির্দেশ
ঘটনার পর নালন্দার সমস্ত স্কুলে মিড-ডে মিল (Midday Meal) ব্যবস্থার আচমকা পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রান্নার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়েও বিশেষ প্রশিক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মিড-ডে মিল শিশুদের পুষ্টি ও স্কুলে উপস্থিতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায়, খাবার পরিবেশনের আগে তার গুণমান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।


