Aaj India Desk, কলকাতা : অভিষেককে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের অস্বস্তি ফের প্রকাশ্যে এল। গত শুক্রবার বনগাঁর বিশ্বজিৎ দাস এবং রাজারহাট-নিউটাউনের তাপস চট্টোপাধ্যায় মমতার শিবির ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রাজনৈতিক পথচলা শুরু করার পরই দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি আক্রমণ করলেন প্রাক্তন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় (Rajib Banerjee)। অভিষেকের নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক ভূমিকা নিয়ে একাধিক অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, অভিষেক দলে থাকলে তাঁর পক্ষে তৃণমূলে থাকা সম্ভব নয়।
তাঁর অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দলের সাংগঠনিক কাঠামো দুর্বল হয়েছে। পাশাপাশি, তৃণমূলের নির্বাচনী কৌশল নিয়ে কাজ করা সংস্থা আই-প্যাক এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, নির্দিষ্ট কিছু আসনে অভিষেকের নেওয়া সিদ্ধান্তের ফলেই দলকে পরাজয়ের মুখ দেখতে হয়েছে। তিনি বলেন, “আইপ্যাক যে যে আসন অভিষেকের কাছে বিক্রি করেছে, সেগুলিতেই দলের শোচনীয় হার হয়েছে।”
অভিষেকের কারণে বর্তমানে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে এমন অনেক নেতা রয়েছেন, যাঁদের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, দুর্নীতি ও অসামাজিক কাজের অভিযোগ রয়েছে। এমনটাই জানিয়ে তিনি বলেন, এই পরিস্থিতির ফলেই দলের সাংগঠনিক অবক্ষয় হয়েছে এবং অনেক কর্মী অসন্তোষের সত্ত্বেও নীরব থাকতে বাধ্য হয়েছেন। এটি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অবস্থান নয়, দলের বহু সাধারণ কর্মীরও একই অনুভূতি বলেও দাবি করেন তিনি।
পাশাপাশি নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় (Rajib Banerjee) বলেন, পরিকল্পিতভাবে তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ার শেষ করার চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে ডেবরায় পাঠানো হয়েছিল রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে। একই সঙ্গে তিনি ব্যক্তিগত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্ত্রী মারা যাওয়ার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগও করেননি।
বিশ্বজিৎ দাস ও তাপস চট্টোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অবস্থান বদলের পর রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rajib Banerjee) এই প্রকাশ্য মন্তব্য তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে। যদিও রাজীবের পক্ষ থেকে সরাসরি ঋতব্রত শিবিরে যোগদানের কথা বলা হয়নি, কিন্তু তাঁর বক্তব্য ও অভিযোগের তালিকা সেদিকেই ইঙ্গিত করছে। এই বিষয়ে তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকেও এখনো কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


