29.3 C
Kolkata
Friday, July 17, 2026
spot_img

ফোন কেড়ে নেওয়ার পরই নিখোঁজ দময়ন্তী, উদ্বেগ বাড়ছে পরিবারের

Aaj India Desk, হাওড়া: হাওড়ার রাজ্যস্তরের রাইফেল শুটার দময়ন্তী সেনের খোঁজ এখনও মেলেনি। প্রায় একদিনেরও বেশি সময় কেটে গেলেও মেয়ের কোনও সন্ধান না মেলায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে পরিবারের। মেয়ের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মা মৌমিতা রায় সেন। তাঁর আশঙ্কা, বুধবার রাতে ঘটে যাওয়া একটি ছোট ঘটনা হয়তো কিশোরীর মনে আঘাত দিয়েছিল।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় পৌনে ১০টা নাগাদ বাড়ি থেকে দুধ কিনতে বেরিয়েছিল দময়ন্তী। তারপর আর সে বাড়ি ফেরেনি। মধ্য হাওড়ার উমাচরণ ভট্টাচার্য লেনের বাসিন্দা দময়ন্তীরা। বাবা ধ্রুবজ্যোতি সেন, মা মৌমিতা রায় সেন এবং ছোট বোনকে নিয়ে তাদের পরিবার।

মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর প্রথমে আশপাশের এলাকায় খোঁজ শুরু করেন পরিবারের সদস্যরা। আত্মীয়-পরিজনদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু কোথাও তার কোনও হদিশ মেলেনি। যেন আচমকাই উধাও হয়ে গিয়েছে দময়ন্তী।

মৌমিতা জানান, প্রতিদিন রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে দময়ন্তী নিজের মোবাইল ফোন বাবার হাতে তুলে দিত। কারণ, ভোরে উঠে শুটিং অনুশীলনে যেতে হতো তাকে। তবে বুধবার রাতে সে নিজে থেকে ফোন জমা দিতে ভুলে যায়। পরে বাবা ফোনটি নিয়ে নেন। মায়ের অনুমান, বিষয়টি হয়তো মেয়ের মনে কষ্ট দিয়েছিল।

মৌমিতা পেশায় তারাসুন্দরী বালিকা বিদ্যাভবনের শিক্ষিকা। তিনি জানিয়েছেন, দময়ন্তী স্বভাবতই শান্ত ও চুপচাপ মেয়ে। তাই হঠাৎ করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা তারা কল্পনাও করতে পারেননি। দময়ন্তী একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী।

রাজ্যস্তরের এই শুটার অলিম্পিয়ান জয়দীপ কর্মকারের কাছে প্রশিক্ষণ নেয়। সম্প্রতি জাতীয় দলের ট্রায়ালের জন্যও ডাক পেয়েছিল সে। বৃহস্পতিবার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ারও কথা ছিল তার।

দময়ন্তীর বাবা ধ্রুবজ্যোতি সেন, যিনি আন্দুলের রানিবালা গার্লস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক, জানিয়েছেন তাঁর মেয়ে মোবাইল-নির্ভর ছিল না। বরং প্রতিদিন নিয়ম মেনেই ফোন জমা দিত। তাই সেদিন ফোনটি চেয়ে নেওয়াটা ছিল একেবারেই স্বাভাবিক ঘটনা।

পুলিশের হাতে আসা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, গোলাপি রঙের হাফ টি-শার্ট এবং হাফ প্যান্ট পরে হাওড়া স্টেশনের ৪ ও ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মের দিকে হাঁটছে দময়ন্তী। পরে শ্রীরামপুরের মাহেশ এলাকায় তাকে দেখা গিয়েছে বলে খবর পেলেও সেখানে গিয়ে কোনও সন্ধান মেলেনি।

এখনও মেয়ের ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছে পরিবার। মায়ের একটাই আবেদন, “যেখানেই থাকিস, একবার অন্তত ফোন কর। ফিরে আয়।”

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন