Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : দিল্লিতে কেন্দ্রীয় ক্ষমতার অঙ্ক বদলানোর মতো ঘটনা সাধারণত এক দিনে ঘটে না। কিন্তু মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে বাংলার মাটিতে এমন এক রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে, যা লোকসভার বর্তমান শক্তির ভারসাম্যকেও নতুন করে আলোচনায় এনে দিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় নেওয়া এবং তাঁদের সংসদীয় অবস্থান নিয়ে জল্পনার জেরেই জাতীয় রাজনীতিতে ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছেন বাংলার নব নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)।
লোকসভার অঙ্কে কী বদল?
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। দলটি ২৪০টি আসনে জয়ী হলেও সরকার গঠনের জন্য এনডিএ শরিকদের সমর্থনের উপর নির্ভর করতে হয়। বিশেষ করে তেলুগু দেশম পার্টি এবং জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর সমর্থন কেন্দ্রীয় সরকারের স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গ থেকে অতিরিক্ত সাংসদদের সমর্থন বিজেপির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জাতীয় রাজনীতিতে বাড়ছে শুভেন্দুর গুরুত্ব
পশ্চিমবঙ্গে বিরোধী রাজনীতিকে সংগঠিত করার ক্ষেত্রে শুভেন্দু অধিকারীর (CM Suvendu Adhikari) ভূমিকা ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তৃণমূলের ২০ জন সাংসদকে NCPI দলে যোগদানের ব্যবস্থা করলেও তাঁরা সরাসরি জানিয়েছেন যে তাঁরা বিজেপি নেতৃত্ব ও শুভেন্দু অধিকারীর দেখানো পথেই এগোবেন। অর্থাৎ লোকসভায় তাঁরা বিজেপিকেই সমর্থন দেবেন। এই পরিস্থিতিতে ওই ২০ জন সাংসদদের সমর্থন আদায় করে লোকসভার অঙ্কে বিজেপির অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে এবং জাতীয় রাজনীতিতে শুভেন্দু অধিকারীর গুরুত্ব আরও বাড়ছে বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের।
পাশাপাশি বর্তমানে উত্তরপ্রদেশ থেকে বিজেপির ৩৩ জন লোকসভা সাংসদ রয়েছেন। এতদিন এটিই কোনো একক রাজ্যের সর্বোচ্চ বিজেপি সাংসদ সংখ্যা ছিল। তবে ক্ষমতায় আসার পর মাত্র দেড় মাসে সেই সংখ্যা পিছনে ফেলে এসেছেন শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। পশ্চিমবঙ্গ থেকে মোট ৩৪ জন বিজেপি সমর্থক সাংসদ তৈরি করতে পেরেছেন তিনি। ফলত জাতীয় রাজনীতিতে যে কারণে যোগী আদিত্যনাথ এত গুরুত্ব পেতেন, এবার সেই তালিকায় উঠে এসেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।
এবার এই বিদ্রোহী সাংসদদের সমর্থন দীর্ঘমেয়াদে যদি বিজেপির পাশেই থাকে, তাহলে শরিক দলগুলির উপর নির্ভরতা কিছুটা কমবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি যে ক্রমশ জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসছে, এই পর্বকে তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।


