Aaj India Desk, পশ্চিম বর্ধমান: কয়লা পাচার মামলার (Coal smuggling Case) তদন্তে বড় পদক্ষেপ নিল ইডি (ED)। দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদের পর বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করা হয়েছে বুদবুদ থানার প্রাক্তন ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডল (Manoranjan Mondal)-কে। বর্তমানে তিনি আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (SB)-তে কর্মরত ছিলেন। ইডির দাবি, তদন্তে সহযোগিতা না করা এবং জেরার সময় দেওয়া বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বারবার তলব, শেষে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির
কয়লা পাচার মামলায় বেশ কিছুদিন ধরেই ইডির নজরে ছিলেন মনোরঞ্জন মণ্ডল। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে একাধিকবার তলব করা হলেও তিনি আগে হাজির হননি। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেন। সেখানে কয়েক ঘণ্টা ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। ইডির অভিযোগ, অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর তিনি দিতে পারেননি এবং তাঁর বক্তব্যে অসঙ্গতি পাওয়া যায়। এরপরই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
স্ত্রীর সংস্থাকে ঘিরে ইডির তদন্ত
চলতি মাসেই দুর্গাপুরে মনোরঞ্জন মণ্ডলের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। সেই সময় তাঁর স্ত্রী পরিচালিত একটি সংস্থার নথিও খতিয়ে দেখা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, ওই সংস্থার মাধ্যমে কয়লা পাচারের বিপুল পরিমাণ টাকা বিভিন্ন জায়গায় সরানো এবং লেনদেন করা হত। অভিযোগ, এই সংস্থাকেই কালো টাকা সাদা করার কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল।
কয়লা মাফিয়া ও পুলিশ কর্তাদের যোগসূত্রের অভিযোগ
ইডির তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, মনোরঞ্জন মণ্ডল নাকি কয়লা মাফিয়া এবং কয়েকজন উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষার কাজ করতেন। তদন্তকারীদের সন্দেহ, কয়লা পাচার থেকে পাওয়া মোটা অঙ্কের টাকা বিভিন্ন প্রভাবশালী পুলিশ কর্তার কাছে পৌঁছে দেওয়া হত তাঁর মাধ্যমেই।
এখন ইডির মূল লক্ষ্য, মনোরঞ্জন মণ্ডলকে হেফাজতে নিয়ে এই পুরো চক্রের সঙ্গে কারা জড়িত, কারা এই টাকার সুবিধা পেয়েছেন এবং সেই অর্থ কোথা থেকে এসেছে, তার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা। তদন্তকারীদের মতে, এই মামলার তদন্ত যত এগোবে, ততই আরও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম সামনে আসতে পারে।


