Aaj lndia Desk, কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের পড়ুয়া স্বপ্নদীপ কুণ্ডুর অস্বাভাবিক মৃত্যুর তিন বছর পূর্ণ হল। র্যাগিংয়ের অভিযোগ ঘিরে যে ঘটনায় একসময় তোলপাড় হয়েছিল গোটা রাজ্য, সেই মামলায় এখনও পূর্ণাঙ্গ বিচার পাওয়ার অপেক্ষায় স্বপ্নদীপের পরিবার। তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে ফের সামনে এল তাঁদের একটাই দাবি ছেলের মৃত্যুর সঠিক তদন্ত হোক এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
তিন বছর আগের সেই ঘটনা
রানাঘাটের বাসিন্দা স্বপ্নদীপ কুণ্ডু যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের পড়ুয়া ছিলেন। পড়াশোনার জন্য কলকাতায় এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলে থাকতেন তিনি। ২০২৩ সালে হস্টেলে তাঁর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসে। এরপরই ঘটনাকে কেন্দ্র করে র্যাগিংয়ের অভিযোগ ওঠে।
স্বপ্নদীপের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই তীব্র আলোড়ন তৈরি হয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মহলে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা এবং র্যাগিং রুখতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। ঘটনার তদন্তে একাধিক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
এখনও কেন অপেক্ষায় পরিবার?
তিন বছর কেটে গেলেও স্বপ্নদীপের বাবা-মায়ের আক্ষেপ, ছেলের মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ বিচার এখনও তাঁরা পাননি। একমাত্র সন্তানকে হারানোর যন্ত্রণা যেমন তাঁদের সঙ্গী হয়ে রয়েছে, তেমনই ঘটনার প্রকৃত সত্য সামনে আসার অপেক্ষাতেও দিন কাটছে তাঁদের।
পরিবারের দাবি, স্বপ্নদীপের মৃত্যুর পিছনে আসলে কী ঘটেছিল, তা স্পষ্টভাবে সামনে আসা প্রয়োজন। শুধু গ্রেফতার বা তদন্ত নয়, ঘটনার শেষ পর্যন্ত বিচার হওয়াটাই তাঁদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আগের সরকারের বিরুদ্ধে পরিবারের অভিযোগ
স্বপ্নদীপের পরিবারের অভিযোগ, তৎকালীন সরকারের আমলে এই ঘটনার তদন্তে তাঁরা কার্যকর অগ্রগতি দেখতে পাননি। তাঁদের দাবি, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এবার ঘটনাটি নতুন করে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হোক।
পরিবারের আবেদন, স্বপ্নদীপের মৃত্যুর সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। তদন্তে যাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ মিলবে, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
আরজি করের বিচার চলছে, যাদবপুরের কী হবে?
আরজি কর-কাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়া যখন এগোচ্ছে, তখন স্বপ্নদীপের পরিবারও প্রশ্ন তুলছে যাদবপুরের ঘটনার বিচার কবে হবে? তাঁদের কথায়, আরজি করের ঘটনায় যেমন বিচার পাওয়ার আশায় পরিবার অপেক্ষা করছে, তেমনই স্বপ্নদীপের পরিবারও তিন বছর ধরে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে।
তাঁদের কাছে এই লড়াই কোনও রাজনৈতিক বিষয় নয়। একমাত্র সন্তানকে হারানোর পর এখন তাঁদের চাওয়া, মৃত্যুর পিছনের সত্য সামনে আসুক এবং কেউ দোষী হলে তাঁর উপযুক্ত শাস্তি হোক।
তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে একটাই আর্জি
স্বপ্নদীপকে হারানোর তিন বছর পরও তাঁর বাবা-মায়ের সেই অপেক্ষা শেষ হয়নি। রানাঘাট থেকে নতুন সরকারের কাছে তাঁদের আবেদন ছেলের মৃত্যুর ঘটনার সঠিক তদন্ত করা হোক এবং দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা পরিবারকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দেওয়া হোক।
সন্তানকে আর ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু স্বপ্নদীপের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে সত্য প্রকাশ্যে আসুক তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে এটাই তাঁর পরিবারের একমাত্র দাবি।


