Aaj India Desk, কলকাতা : লোকসভায় তৃনমূলের চিফ হুইপ পদ থেকে সরানোর পর থেকেই একের পর এক পদে ইস্তফা দেওয়া শুরু করেন তৃনমূলের অন্যতম নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar)। গত রবিবারই বারাসাত সাংগঠনিক জেলা সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। এরপর মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠকে হাজির হওয়ার পর বুধবারই আবার দলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ ও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির আবেদন জানালেন তিনি।
কী জানিয়েছেন কাকলি ?
দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীর উদ্দেশে একটি চিঠি লিখে সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে পদত্যাগের আরজি জানান। সাথে ওই চিঠিতে তিনি দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি, দুর্নীতির অভিযোগ এবং সাংগঠনিক সংস্কৃতি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন। চিঠিতে রাজ্যের সাম্প্রতিক একাধিক বিতর্কিত ইস্যুর উল্লেখ করেছেন তৃণমূল সাংসদ। রেশন দুর্নীতি, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি-সহ বিভিন্ন আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অবিশ্বাস তৈরি করেছে বলে তিনি দাবি করেছেন। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে পিজিটি চিকিৎসকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাও উল্লেখ করেছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar)। সেই ঘটনার পর ওঠা ধামাচাপার অভিযোগ সমাজকে ব্যথিত করেছে বলেও চিঠিতে লিখেছেন তিনি।
অশালীন আচরণের অভিযোগ ?
চিঠিতে এক মহিলা সাংসদের বিরুদ্ধে অন্য এক অশিক্ষিত ও অভদ্র দলীয় সাংসদের আচরণের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেছেন কাকলি। তাঁর দাবি, সেই অশালীন আচরণ বন্ধ করা যায়নি এবং উর্ধ্বতন নেতৃত্বের সহযোগিতাও মেলেনি। সেই কারণেই ওই পদে থাকা অর্থহীন বলে মনে করছেন তিনি। যদিও চিঠিতে কোনও ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়নি।
তবে সাংগঠনিক পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেও দল ছাড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar)। চিঠিতে তিনি স্পষ্ট লিখেছেন, তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের একজন সাধারণ কর্মী হিসেবেই মানুষের পাশে থাকতে চান এবং বাংলার স্বার্থে কাজ চালিয়ে যেতে চান। যদিও দলীয় নেতৃত্বের তরফে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।


