কলকাতা: তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ (TMC bank account freeze) সংক্রান্ত মামলায় সপ্তাহের প্রথম দিন হাইকোর্টে চরম ধাক্কা খেল ঋতব্রত শিবির। সোমবার এই মামলায় কলকাতা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠল। অন্যদিকে কালীঘাট তৃণমূলের দায়ের করা মূল মামলায় দু’পক্ষের সওয়াল শুনে রায়দান স্থগিত রাখলেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও।
শুনানিতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) জানায়, তৃণমূলের সব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ (TMC bank account freeze) করা হয়নি, মাত্র তিনটি অ্যাকাউন্টে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। ইডির দাবি, দলের অন্যান্য অ্যাকাউন্টে এখনও প্রায় ১৬৪ কোটি টাকা রয়েছে, ফলে দৈনন্দিন সাংগঠনিক কাজে কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
ইডির আরও বক্তব্য, তদন্তের স্বার্থেই ওই অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ (TMC bank account freeze) করা হয়েছে। সংস্থার দাবি, এমন ব্যবস্থা না নিলে অর্থ বিদেশে, যেমন দুবাই বা কেম্যান দ্বীপপুঞ্জের মতো স্থানে পাচার হয়ে যেতে পারত এবং পরে সেই অর্থের হদিস পাওয়া কঠিন হয়ে যেত।
এদিন ইডি আলিপুর আদালতের একটি নির্দেশের উল্লেখ করে মামলাকারীর মামলা করার অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তোলে। সেই প্রেক্ষিতে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও জানতে চান, নিম্ন আদালতের মামলায় তৃণমূল কংগ্রেসকে আদৌ পক্ষ করা হয়েছিল কি না। জবাবে তৃণমূলের আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি জানান, ওই মামলায় কাউকেই পক্ষ করা হয়নি, বিষয়টি আদালতের নির্দেশেই স্পষ্ট রয়েছে।
শুনানির সময় বিচারপতি আরও প্রশ্ন তোলেন, নিম্ন আদালতের বিচারকের কোনও ব্যক্তিকে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরিচালনার ক্ষমতা দেওয়ার এখতিয়ার রয়েছে কি না। পাশাপাশি, অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ (TMC bank account freeze) করার আগে ইডি পুলিশের কাছ থেকে কোনও রিপোর্ট নিয়েছিল কি না, তাও জানতে চান তিনি। ইডির জবাব, সিডিউলড অফেন্সের ক্ষেত্রে পুলিশের রিপোর্ট নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়।
সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর এদিন মামলার রায় সংরক্ষণ করে রাখে কলকাতা হাই কোর্ট। এখন আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশের দিকেই নজর রাজনৈতিক ও আইনি মহলের।


