কলকাতা: চাকরি দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টানা প্রতারণা মামলায় হাইকোর্টের রক্ষাকবচ পেলেন রাজ্যের প্রাক্তন সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইঞা (Manas Bhunia)। সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে মামলার শুনানি হয়। বিচারপতি জানান, এই মামলায় মানস সহ বাকি অভিযুক্তদের এই মুহূর্তে গ্রেফতারি নয়। তবে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে এবং আদালতের অনুমতি ছাড়া সবংয়ের বাইরে যেতে পারবেন না বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, রাজ্যে পালাবদলের পর মানস ভুঁইঞার (Manas Bhunia) বিরুদ্ধে সবং থানায় অভিযোগ দায়ের করেন বিকাশ কুমার টুং নামে এক ব্যক্তি। অভিযোগ, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁর স্ত্রী মঞ্জু সাহু টুংকে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে পাঁচ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, তৎকালীন মন্ত্রী মানস ভুঁইঞার মধ্যস্থতায় তৃণমূল নেতা শেখ আবু কালাম বক্স ও ভোলানাথের মাধ্যমে ওই চাকরির ব্যবস্থা করা হয়।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, গত ১ মার্চ ২০২৬-এ CISB Services Private Limited-এর অধীনে স্টুয়ার্ড পদে তেমাথানির সেচ বাংলোয় কাজে যোগ দেন মঞ্জু সাহু টুং। পরিবারের দাবি, নিয়মিত কাজ করার পর মাত্র দু’মাসের মাথায়, গত ৬ মে তাঁকে জানানো হয় তাঁর চাকরি বাতিল করা হয়েছে। এমনকি, চাকরি বাতিলের নির্দেশের কপিও হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হয়েছিল বলে অভিযোগ।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে সবং থানার পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩১৮(৪) ও ৬১(২) ধারায় মামলা রুজু করে। পরে প্রাক্তন মন্ত্রীকে (Manas Bhunia) নোটিস পাঠিয়ে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। এরপর তিনি মেদিনীপুর জেলা আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন। যদিও মামলার শুনানি স্থগিত হয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি।
সোমবার সেই মামলার শুনানিতে হাই কোর্ট তাঁকে (Manas Bhunia) অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দিলেও তদন্তে সহযোগিতার ওপর জোর দিয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তদন্তকারী সংস্থা যখনই ডাকবে, তখনই হাজিরা দিতে হবে মানস ভুঁইঞাকে। পাশাপাশি আদালতের অনুমতি ছাড়া সবং ছেড়ে কোথাও যেতে পারবেন না তিনি। মামলার পরবর্তী শুনানিতে আদালতের পর্যবেক্ষণের দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক ও আইনি মহলের।


