Aaj India Desk, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের সরকারি ও সরকার-পোষিত স্কুলগুলিতে ‘বিদ্যাঞ্জলি’ (Vidyanjali) প্রকল্প চালুর নির্দেশ দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র শিক্ষা মিশন (PBSSM)। এই সরকারি সার্কুলারে স্কুলগুলিকে স্বেচ্ছাসেবক বা ভলান্টিয়ারদের যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করতে বলা হয়েছে। এরপর থেকেই শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও শিক্ষামহলে শুরু হয়েছে আলোচনা।
কী বলা হয়েছে নির্দেশিকায় ?
বিজ্ঞপ্তিটি পাঠানো হয়েছে জেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক এবং ডিপিএসসি-র চেয়ারম্যানদের কাছে। সেখানে বলা হয়েছে, কেন্দ্রের শিক্ষা মন্ত্রকের ‘বিদ্যাঞ্জলি’ কর্মসূচির আওতায় স্কুলগুলিকে একটি অনলাইন পোর্টালে নিজেদের প্রয়োজন জানাতে হবে। স্কুলগুলি চাইলে সেখানে মানবসম্পদ, অবকাঠামো, শিক্ষাসামগ্রী, ডিজিটাল সরঞ্জাম বা অন্যান্য সহায়তার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করতে পারবে। সেই অনুযায়ী আগ্রহী স্বেচ্ছাসেবকরা আবেদন করবেন এবং স্কুল কর্তৃপক্ষ তাঁদের বাছাই করবে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে যে স্কুলগুলিকে Vidyanjali Portal-এ নথিভুক্ত হতে হবে। UDISE+ কোড ব্যবহার করে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। প্রকল্পের কার্যকারিতা জেলা স্তরে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
ভলান্টিয়ারদের ভূমিকা কী ?
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ভলান্টিয়াররা দুইভাবে সহযোগিতা করতে পারবেন।
- পরিষেবা বা বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ
- স্কুলে সামগ্রী, সরঞ্জাম বা অবকাঠামোগত সহায়তা প্রদান
এছাড়া স্কুল চাইলে সংশ্লিষ্ট ভলান্টিয়ারের সঙ্গে সরাসরি বা ভার্চুয়াল বৈঠক করতে পারবে। প্রয়োজনে চুক্তিপত্র এবং প্রশংসাপত্রও দেওয়া যেতে পারে বলে উল্লেখ রয়েছে।
শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
বিজ্ঞপ্তিতে কোথাও স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ বন্ধের কথা উল্লেখ নেই। তবে “ভলান্টিয়ার” বা স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে পরিষেবা দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসায় বিরোধী মহলের একাংশ প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে, এতে ভবিষ্যতে শিক্ষক ঘাটতি পূরণে অস্থায়ী ব্যবস্থার উপর নির্ভরতা বাড়বে কি না। দীর্ঘদিন ধরে SSC ও টেটের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক চলছে। সেই আবহে এই প্রকল্পকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক ব্যাখ্যাও সামনে আসছে। অনেকের মতে, এই প্রকল্পের ফলে ধীরে ধীরে SSC ও টেট বন্ধও হয়ে যেতে পারে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পকে “সিভিক টিচার” নিয়োগের সঙ্গে তুলনা করে নানা পোস্ট ছড়াতে শুরু করেছে। যদিও সরকারি নথিতে “সিভিক টিচার” শব্দবন্ধ ব্যবহার করা হয়নি। প্রশাসনিক মহলের বক্তব্য, এটি মূলত স্বেচ্ছাসেবী অংশগ্রহণ ও সামাজিক সহযোগিতার প্রকল্প। তবে বাস্তবে স্কুলগুলিতে এই প্রকল্প কীভাবে কার্যকর হয় এবং ভলান্টিয়ারদের ভূমিকা কতটা বিস্তৃত হয়, এখন সেদিকেই নজর শিক্ষা মহলের।


