কলকাতা: বাম জমানা থেকে ভোট পরবর্তী হিংসার সাক্ষী বহন করছে পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal Election)। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনেও তৃণমূলের প্রত্যাবর্তনের পর ব্যাপক অশান্তি এমনকি খুন, জখম পর্যন্ত ঘটেছে রাজ্যে। এমনকি সেইসময় অভিযোগ উঠেছিল, তৃণমূলের কর্মীদের ভয়ে ঘর ছাড়া হতে বাধ্য হয়েছিলেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা।
ছাব্বিশের ভোটে দুই দফায় বেশ কিছু জায়গায় টুকরো টুকরো অশান্তির খবর সামনে এলেও মোটের উপর শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে বলেই ঘোষণা করেছে খোদ নির্বাচন কমিশন। বুধবার ভোটপর্ব মিটতেই বাংলার জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জ্ঞানেশ কুমার বলেন, “প্রথম ও দ্বিতীয় দফা মিলিয়ে স্বাধীনতার পর থেকে এই প্রথম এ বছরই রাজ্যের নির্বাচনে (West Bengal Election) সর্বোচ্চ শতাংশ ভোটদান করা হয়েছে। বাংলার এই বিপুল জনঅংশগ্রহণ হল ‘ভোটের উৎসব, সামগ্রিকভাবে বাংলার গর্ব’”। ফলাফলের দিনও এই ট্র্যাক রেকর্ড ধরে রাখতে মরিয়া নির্বাচন কমিশন। তাই ৪ মে ফল ঘোষণার পরও জারি থাকবে আঁটসাঁট নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
হিংসা ঠেকাতে কি ব্যবস্থা?
জানা গিয়েছে, ভোট (West Bengal Election) পরবর্তী হিংসা ঠেকাতে রাজ্যের নিরাপত্তা বলয় এখনই সরিয়ে নেওয়া হবে না। বরং, ৪ মে ভোটের ফল ঘোষণার পরও রাজ্যে টহল দেবে কেন্দ্রিওয় বাহিনী ও সাঁজোয়া গাড়ি। এমনকি হিংসা ও সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ ঠেকাতে তৎপর থাকবে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা NIA-ও। সূত্রের খবর, ভোটের পর সম্ভাব্য হিংসাপ্রবণ এলাকাগুলিকে চিহ্নিত করে সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে। অত্যন্ত স্পর্শকাতর, সংবেদনশীল ও সাধারণ এই তিনভাগে এলাকা ভাগ করে বাহিনী মোতায়েন হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে বাহিনীকে।
ভোটের (West Bengal Election) আগেই মোতায়েন করা বুলেট ও বিস্ফোরণ প্রতিরোধকারী সাঁজোয়া গাড়ি ফল ঘোষণার পরও বিভিন্ন এলাকায় টহল দেবে, যদিও এর আগে এই উদ্যোগকে তৃণমূল সমালোচনা করেছিল। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ ও মালদার মতো সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে বিশেষ নজরদারি থাকবে। বিএসএফ-এর সঙ্গে সমন্বয় রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে এবং একটি হেল্পলাইনও চালু থাকবে যাতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো যায়।


