কলকাতা: গণনার দিন বড়সড় ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা করছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শেষ হতেই বৃহস্পতিবার এক্সে ভিডিও বার্তায় তৃণমূল প্রার্থী, কর্মীদের সতর্ক করেছেন তিনি। দিনের বেলায় কর্মী ও রাতের বেলায় প্রার্থীদের জেগে স্ট্রংরুম পাহারা দেওয়ার নিদানও দেন তিনি। এমনকি খোদ রাত জেগে ভবানীপুরের স্ট্রংরুম পাহারা দেবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। অন্যদিকে, গণনার ঠিক দু-দিন আগে অর্থাৎ ২ মে জরুরী বৈঠক ডাকল বিজেপি (BJP)।
কোথায়, কি নিয়ে বৈঠক?
জানা গিয়েছে, ২ মে কলকাতায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডেকেছে বিজেপি (BJP)। দলীয় সূত্রে খবর, এই বৈঠকে দলের সাংসদ, বিধায়ক এবং শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত থাকবেন। শুধু রাজ্যের নেতারাই নয়, নির্বাচনের সময় ভিনরাজ্য থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদেরও ডাকা হয়েছে। অর্থাৎ, ভোটের পরেও সংগঠনকে একসঙ্গে রেখে সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে চাইছে গেরুয়া শিবির (BJP)। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বৈঠকে মূলত ভোটগণনার প্রস্তুতি, বুথ ম্যানেজমেন্ট ও নজরদারি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে। বিজেপির কাছে বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে, কারণ প্রচার ও ভোটগ্রহণ শেষ হলেও চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ হবে ৪ মে।
কোন বুথে বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন, কোথায় এজেন্টদের আরও সক্রিয় হতে হবে এবং কীভাবে দ্রুত তথ্য সংগ্রহ করা যাবে, এই সব বিষয় নিয়েই কৌশল ঠিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি, কোনওরকম অনিয়ম রুখতে বিশেষ মনিটরিং সেল গঠনের বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।
অন্যদিকে, গণনার দিন ও ভোট পরবর্তী হিংসা ঠেকাতে তৎপর নির্বাচন কমিশন। গণনা কেন্দ্র নিয়েও বৃহস্পতিবার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে কমিশন। নির্বাচন কমিশন গণনাকেন্দ্রে অননুমোদিত প্রবেশ রুখতে QR কোডভিত্তিক ফটো আইডি চালু করেছে, যা ৪ মে ২০২৬ থেকে পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ও উপনির্বাচনে কার্যকর হবে। ধাপে ধাপে ভবিষ্যতের সব নির্বাচনেও এই ব্যবস্থা চালু করা হবে।
গণনাকেন্দ্রে তিনস্তরের নিরাপত্তা বলয় থাকবে, যেখানে শেষ ধাপে QR স্ক্যান বাধ্যতামূলক। অনুমোদিত কর্মী, প্রার্থী ও এজেন্টদের জন্য এই আইডি প্রযোজ্য। পাশাপাশি মিডিয়া সেন্টার, কড়া নজরদারি ও প্রশাসনিক নির্দেশের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জোর দিচ্ছে কমিশন।


