Aaj India Desk, কলকাতা : ফের অস্বস্তিতে নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান (Milan Pradhan)। ১৯ বছর আগের খেজুরি মামলায় তাঁর ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ সংক্রান্ত সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ খারিজ করে দিল কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ফৌজদারি মামলায় এই ধরনের অন্তর্বর্তীকালীন ‘রক্ষাকবচ’-এর কোনও আইনি ভিত্তি নেই।
শুনানিতে প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, কোন আইনের ভিত্তিতে সিঙ্গল বেঞ্চ এই ধরনের নির্দেশ দিয়েছিল? তাঁর বক্তব্য, কোনও ব্যক্তি গ্রেফতার হলে তাঁকে জামিনের আবেদন করতে হবে। আর গ্রেফতারের আশঙ্কা থাকলে আগাম জামিন চাইতে হবে। প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, ভোটে প্রার্থী হয়েছেন বলে কোনও ব্যক্তিকে ফৌজদারি মামলায় আলাদা সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই। সেই কারণেই সিঙ্গল বেঞ্চের দেওয়া অন্তর্বর্তী নির্দেশ বহাল রাখা যায় না বলে জানায় ডিভিশন বেঞ্চ।
এর আগে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের সিঙ্গল বেঞ্চ খেজুরি থানার ২০০৭ সালের একটি মামলায় মিলন প্রধানকে (Milan Pradhan) ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ না দেখানোর নির্দেশ দিয়েছিল। রাজ্য সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যায়। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে সেই নির্দেশের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। আদালতের বক্তব্য, ফৌজদারি আইনে এই ধরনের সাধারণ ‘অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ’-এর কোনও ব্যবস্থা নেই।
উল্লেখ্য , ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম-খেজুরি পর্বের একাধিক মামলায় মিলন প্রধানের (Milan Pradhan) বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর তাঁকে একটি পুরনো মামলায় গ্রেফতার করা হয় এবং পরে আরও কয়েকটি মামলায় তাঁকে ‘অ্যারেস্ট’ দেখানো হয়। নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচন ৬ অক্টোবর। তার আগে পুরনো মামলায় গ্রেফতার ও আদালতের একের পর এক নির্দেশকে ঘিরে আইনি টানাপোড়েন চলছে।
ডিভিশন বেঞ্চের এই সিদ্ধান্তের পর মিলন প্রধানের সামনে এখন নিয়মিত জামিন বা আগাম জামিনের আইনি পথই খোলা থাকছে। ফলে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে তাঁর মামলা ফের কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর।


