32 C
Kolkata
Thursday, August 20, 2026
spot_img

বাংলার মেধাবীরা কেন বাইরে চলে যাচ্ছেন ? ‘ব্রেন ড্রেন’ নিয়ে বড় মন্তব্য শমীকের

Aaj lndia Desk, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের মেধা, রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং ‘ব্রেন ড্রেন’ নিয়ে সরব হলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)। সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, রাজনীতির অতিরিক্ত প্রভাব এবং সংকীর্ণ রাজনৈতিক চিন্তাভাবনাই রাজ্যের মেধার বিকাশে অন্যতম বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একইসঙ্গে গণতন্ত্রে বিরোধিতা করার অধিকার রক্ষা করার পক্ষেও জোরালো সওয়াল করেন তিনি।

রাজনীতির গণ্ডিতে আটকে যাচ্ছে মেধা

শমীকের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে রাজনীতির বাইরে দাঁড়িয়ে বৃহত্তরভাবে চিন্তা করার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হয়েছে। তাঁর মতে, এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং মেধাবী প্রজন্মের ভবিষ্যতের উপর। একসময় যে বাংলা দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পথ দেখাত, আজ সেই রাজ্য অনেক ক্ষেত্রেই পিছিয়ে পড়েছে বলে আক্ষেপ করেন তিনি।

বাংলার মেধা ছড়িয়ে পড়ছে দেশ-বিদেশে

রাজ্যের তরুণ প্রজন্মের বাইরে চলে যাওয়ার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন বিজেপি নেতা। তাঁর দাবি, বেঙ্গালুরুতে প্রায় ১৪ লক্ষ ৬০ হাজার বাঙালি তরুণ-তরুণী কর্মরত রয়েছেন তিন বছর আগের পরিসংখ্যানের উল্লেখ করে এমন দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, এর প্রভাব এতটাই বেশি যে বেঙ্গালুরুতে বাংলা দ্বিতীয় কথ্য ভাষার জায়গা করে নিয়েছে।

শুধু বেঙ্গালুরু নয়, আমেরিকার সিলিকন ভ্যালি, নিউ জার্সি, সান ফ্রান্সিসকো, ম্যানহাটন থেকে শুরু করে নাসা ও ইসরোর মতো প্রতিষ্ঠানেও বাঙালিরা নিজেদের দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন বলে জানান তিনি। তবে এই মেধার একটা বড় অংশ কেন বাংলার বাইরে গিয়ে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শমীক।

প্রথম পরিচয় আমরা ভারতীয়’

জাতীয়তাবাদী পরিচয়ের প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। শমীক বলেন, প্রথম পরিচয় ভারতীয়, তার পরে বাঙালি, মারাঠি কিংবা গুজরাতি। তাঁর মতে, ভাষা বা আঞ্চলিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের সামগ্রিক উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করাই হওয়া উচিত রাজনীতির লক্ষ্য।

‘রাইট টু ডিসেন্ট’ রক্ষা জরুরি

রাজ্যে নতুন সরকারের ১০০ দিন পূরণের প্রসঙ্গ টেনে শমীক দাবি করেন, দীর্ঘ ৪৯ বছরের রাজনৈতিক আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার তৈরি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, দলীয় প্রতীকে সরকার তৈরি হলেও সেটি যেন কোনও নির্দিষ্ট দলের সরকার না হয়ে সাধারণ মানুষের ‘পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার’ হিসেবে কাজ করে, সেই লক্ষ্যেই এগোনো হচ্ছে।

সবশেষে গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে ‘রাইট টু ডিসেন্ট’-এর কথা তুলে ধরেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, সরকারের সমালোচনা বা বিরোধিতা করার অধিকার কেড়ে নেওয়া হলে গণতন্ত্র সুস্থভাবে টিকে থাকতে পারে না। মতের বিরোধিতা থাকবেই, কিন্তু সেই বিরোধিতার জায়গাটুকু বাঁচিয়ে রাখাই গণতন্ত্রের মূল শক্তি।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন