Aaj India Desk, কলকাতা : ABVP-র ‘যাদবপুর চলো’ অভিযান ঘিরে বৃহস্পতিবার ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। ৮বি বাসস্ট্যান্ডে বাম ছাত্র সংগঠনগুলির অবস্থান ঘিরে পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙা নিয়ে শুরু হয় ধস্তাধস্তি। একের পর এক ব্যারিকেড সরিয়ে ক্যাম্পাসের দিকে এগোনোর সময় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেটের কাছে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। আন্দোলনকারীদের গেট টপকে ভিতরে ঢোকার চেষ্টার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত এম্বলেমের লোহার কাঠামোও ভেঙে যায়।
৮বি-তে মুখোমুখি ABVP-বাম
বৃহস্পতিবার যাদবপুরে ABVP-র কর্মসূচিকে ঘিরে সকাল থেকেই উত্তেজনা ছিল। ৮বি বাসস্ট্যান্ডের কাছে বাম ছাত্র সংগঠনগুলির অবস্থানের সামনে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করে।
এরপরই ব্যারিকেড সরিয়ে এগোনোর চেষ্টা শুরু হয়। ধস্তাধস্তির মধ্যে প্রথম ব্যারিকেড ভেঙে যায়। পরে দ্বিতীয় ব্যারিকেডও সরিয়ে ক্যাম্পাসের দিকে এগিয়ে যান ABVP সমর্থকেরা।
৪ নম্বর গেটের সামনে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত
ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ABVP এর সমর্থকরা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেটের উপর উঠে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। সেই সময় গেটের সঙ্গে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতীকের লোহার কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এম্বলেম শুধুমাত্র একটি প্রতীক নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘ ঐতিহ্য ও ইতিহাসের সঙ্গেও তা যুক্ত। আন্দোলনের জেরে সেই কাঠামো ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, রাজনৈতিক বা ছাত্র আন্দোলনের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী পরিকাঠামো কি এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া উচিত?
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া ও শিক্ষকদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, রাজনৈতিক মতাদর্শের সংঘাতের মধ্যে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও সম্পত্তি কেন ক্ষতির মুখে পড়বে? বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে আন্দোলন ও প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, ঐতিহাসিক প্রতীক বা পরিকাঠামোর ক্ষতি কোনওভাবেই সেই প্রতিবাদের স্বাভাবিক অংশ হতে পারে না বলেও জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। আন্দোলন চলবে, রাজনৈতিক মতপার্থক্যও থাকবে, কিন্তু সেই সংঘাতের জেরে যাদবপুরের ঐতিহ্যের প্রতীক ক্ষতিগ্রস্ত হবে কেন? বৃহস্পতিবারের ঘটনার পর এই প্রশ্নই এখন ঘুরছে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে।


