কলকাতা: তারাতলা ব্রেস ব্রিজ সংলগ্ন নির্মীয়মাণ গোডাউন ধসের (Taratala Building collapse) ঘটনায় সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, লোহার বিমের উপর ছাদের ঢালাই চলাকালীনই বিশাল কাঠামোর ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। তারপরই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে তিনতলা সমান উচ্চতার নির্মীয়মাণ গুদামঘর। ঘটনায় বহু শ্রমিক ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়েন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্রের খবর, ভেঙে পড়া এই গুদামঘরটি বেহরা ব্রাদার্সের। গুদামটির মালিক হিসেবে শম্ভু বেহরার নাম সামনে এসেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, গত ছয় থেকে সাত মাস ধরে নির্মাণকাজ চলছিল। চায়ের গুদাম হিসেবে ব্যবহার করার উদ্দেশ্যেই লোহা, টিন ও কংক্রিটের বিশাল কাঠামো তৈরি করা হচ্ছিল। ঘটনার পরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে নির্মাণ সংস্থার ভূমিকা নিয়ে। জানা গিয়েছে, গোডাউনটির নির্মাণকাজের দায়িত্বে ছিলেন দক্ষিণ কলকাতার প্রভাবশালী ডেভেলপার আসগর খান। স্থানীয় মহলের দাবি, তিনি এলাকায় যথেষ্ট প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূলের নেতার ঘনিষ্ঠ বলেও পরিচিত।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই এই নির্মাণকাজ চলছিল (Taratala Building collapse)। কারণ, গোডাউনটি কলকাতা বন্দর এলাকার জমিতে তৈরি হচ্ছিল, যা লিজ নেওয়া হলেও নির্মাণের জন্য প্রয়োজন হয় কলকাতা পুরসভার এনওসি বা অনাপত্তি শংসাপত্র। সেই অনুমতি আদৌ নেওয়া হয়েছিল কি না, তা এখন খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।
তৃণমূলকে তোপ ইন্দ্রনীল খাঁর
পাশাপাশি ঘটনাস্থলে পৌঁছে মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ জানান, “দমকল, পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। সেনাও নামানো হয়েছে। আমাদের প্রথম লক্ষ্য যত দ্রুত সম্ভব আটকে পড়া মানুষদের জীবিত উদ্ধার করা।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, তৃণমূল সরকারের আমলে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে গোডাউনটি (Taratala Building collapse) তৈরি করা হচ্ছিল, যার জেরেই এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
অন্যদিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পালও। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, গোটা পরিস্থিতির উপর সরাসরি নজর রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উদ্ধারকাজে যাতে কোনওরকম গাফিলতি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


