Aaj India Desk, কোচবিহার : হিসেবটা অনেক দিনের। অভিযোগও নতুন নয়। তবে রাজ্যের ক্ষমতার পালাবদলের পর শেষ পর্যন্ত কাটমানির টাকা ফেরত দেওয়ার দৃশ্য দেখা গেল বুধবার। কোচবিহার জেলার ভাওয়েরথানা এলাকার ছোট বাংদাকি এলাকায় আবাস যোজনার (Awas yojana) উপভোক্তাদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ ফেরত দিলেন দুই তৃনমূল নেতা উত্তম বর্মন ও মনোজ অধিকারী।
আবাস যোজনা নিয়ে পুরনো অভিযোগ
আবাস যোজনার (Awas yojana) ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে কয়েক বছর আগে একাধিক সুবিধাভোগীর কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা নিয়েছিল তৎকালীন ক্ষমতায় থাকা তৃনমূল দল। অভিযোগের তির ছিল এলাকার দুই তৃণমূল নেতা উত্তম বর্মন ও মনোজ অধিকারীর বিরুদ্ধে। আবাস যোজনার সুবিধাভোগীদের একাংশের দাবি, সে সময় রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তাঁরা প্রকাশ্যে অভিযোগ জানাতে পারেননি। ফলে বিষয়টি দীর্ঘদিন চাপা ছিল।
ডিম থেরাপির ভয়ে চাপে নেতা
রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পরিস্থিতির বদল হয়। সম্প্রতি ছোট বাংদাকি এলাকায় আবাস যোজনার (Awas yojana) উপভোক্তারা একজোট হয়ে আন্দোলন শুরু করেন। তাঁদের মূল দাবি ছিল, ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে নেওয়া অর্থ ফেরত দিতে হবে। ক্রমশ আন্দোলনের চাপ বাড়তে থাকায় অভিযুক্ত দুই নেতার উপরও চাপ তৈরি হয়। ইতিমধ্যেই রাজ্যের নানান জেলায় তৃনমূল নেতারা ডিম থেরাপির সাথে তীব্র জনরোষের মুখোমুখি হয়েছেন। সেই একই আশঙ্কায় ভয়ে তড়িঘড়ি জনতার টাকা ফেরত দিলেন কোচবিহারের দুই নেতা।
৯ জনকে ফেরত দেওয়া হল টাকা
বুধবার সুবিধাভোগীদের ডেকে অর্থ ফেরত দেন উত্তম বর্মন ও মনোজ অধিকারী। এক প্রবীণ উপভোক্তা জানান, তাঁর কাছ থেকে ৪,৯০০ টাকা নেওয়া হয়েছিল। তিনি এদিন সেই অর্থ ফেরত পেয়েছেন।
তবে দায় এড়িয়ে যান উত্তম বর্মন। তিনি বলেন, “ঘর পাইয়ে দেওয়ার জন্য দলীয় নির্দেশেই টাকা নেওয়া হয়েছিল। ব্যক্তিগতভাবে আমি টাকা নিইনি। আজ সেই টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।” তাঁর দাবি, মোট ৯ জনকে ২৪,৯০০ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর এলাকাজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। আবাস যোজনা সংক্রান্ত অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এবং পরবর্তীতে আন্দোলনের চাপে টাকা ফেরতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠছে। যদিও দলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।


